টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম ওরফে আজাদকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বহিষ্কারপত্রে উল্লেখ করা হয়, আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের ডামি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়া’, ‘আয়নাঘরের মাস্টারমাইন্ড ও হাজারো গুম-খুনের নায়ক বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের ব্যবসায়িক অংশীদার হওয়া’ এবং ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে আসাদুল ইসলাম বলেন, আমি ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা বিএনপির কোন নেতা কাউকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে পারেন না। এ বিষয়টি নিয়ে আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করব। সম্প্রতি আমার জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা ছড়াচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধুপুর উপজেলার মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে ব্যবসায় যুক্ত হন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর এলাকায় এসে তিনি রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন। নিয়মিত সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন এবং তার অনুসারীও তৈরি করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু হয়। সেখানে তাকে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রীর ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে অভিযোগ করা হয়।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা অভিযোগ আসছিল। বিগত সরকারের ডামি নির্বাচনে ঢাকায় তিনি একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেন। পাশাপাশি আয়নাঘরের মাস্টারমাইন্ড জিয়াউল আহসানের সঙ্গে ব্যবসায় জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া গেছে। দফায় দফায় তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা মেলায় দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।