চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মশার কামড়ে (এডিস মশা) ছড়ায়। এটি চিকুনগুনিয়া ভাইরাস (CHIKV) দ্বারা সংক্রমিত হয়। সাধারণত বর্ষাকালে এর প্রকোপ বেশি দেখা যায়।
চিকুনগুনিয়ার প্রধান উপসর্গ
হঠাৎ উচ্চ মাত্রার জ¦র (102–104°F), তীব্র জোড়ার ব্যথা (বিশেষ করে হাত, পা, কবজি, গোড়ালি, আঙুলের জোড়ায়) পেশির ব্যথা, ত্বকে ফুসকুড়ি/র্যাশ, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য, চোখে ব্যথা বা লাল হওয়া সাধারণত জ¦র ৩ থেকে ৭ দিন থাকে। তবে জোড়ার ব্যথা অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি হয়।
চিকুনগুনিয়া-পরবর্তী ব্যথার কারণ
ভাইরাসজনিত প্রদাহ (Post-viral arthritis) : চিকুনগুনিয়া ভাইরাস জোড়ার Synovial fluid-এ প্রদাহ তৈরি করে। জোড়ার আশপাশের টিস্যুতে (ligament, tendon) প্রদাহ থেকে যায়।
ইমিউন সিস্টেমের প্রতিক্রিয়া ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিরিক্ত কাজ করে প্রদাহ দীর্ঘায়িত করে।
জোড়ার তরলের পরিমাণ ও গুণমান পরিবর্তন : হাড়ের মাথার সঙ্গে সঙ্গে জোড়ার তরল ও কার্টিলেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে ব্যথা থেকে যায়।
নড়াচড়ার সীমাবদ্ধতা : বিশ্রাম ও ব্যথার কারণে জোড়ার নড়াচড়া কম হয়, ফলে Rigidity ও Stiffness তৈরি হয়।
এ কারণে চিকুনগুনিয়ার পর ৩-৬ মাস পর্যন্ত ব্যথা থাকতে পারে, কিছু ক্ষেত্রে ১-২ বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।
চিকুনগুনিয়া-পরবর্তী ব্যথার চিকিৎসা
বিশ্রাম ও নড়াচড়া সমন্বয় : অতিরিক্ত বিশ্রাম না নিয়ে হালকা নড়াচড়া ও ফিজিওথেরাপি করতে হবে। হাত-পায়ের জোড়াগুলোকে ধীরে ধীরে নড়াচড়া করতে হবে।
ওষুধ
ব্যথা ও প্রদাহ কমানোর জন্য : প্যারাসিটামল (ব্যথা থাকলে) প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে নন-স্টেরয়েড এন্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগ (NSAIDs) দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে DMARDs দেওয়া যেতে পারে।
ফিজিওথেরাপি
রেঞ্জ অব মোশন (ROM) এক্সারসাইজ : জোড়ার নড়াচড়া ধরে রাখতে সহায়তা করে। | Stretching Exercise : পেশির শক্তি ধরে রাখতে।Strengthening Exercise : পেশি ও জোড়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে। হাত/পা গরম পানিতে ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে নিলে ব্যথা ও Stiffness কমে।
গরম বা ঠান্ডা সেঁক : সাধারণত গরম সেঁক ব্যথা ও I Stiffness কমাতে উপকারী। ব্যথা তীব্র হলে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
পুষ্টিকর খাবার ও হাইড্রেশন : পর্যাপ্ত পানি পান। সবজি, ফলমূল, ওমেগা-৩ যুক্ত খাবার (মাছ) প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার হাড় ও জোড়ার জন্য ভালো।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
ব্যথা ১ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে। জোড়ার ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে গেলে। চলাফেরায় সমস্যা হলে। অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ওজন কমে গেলে নিয়মিত ফলো-আপ এবং চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা
নিয়ে ধীরে ধীরে ব্যথা ও দুর্বলতা কমে যায়।