বরিশাল বিভাগের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও ঐতিহ্য রক্ষায় যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন নৌ-পরিবহন, শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
শ্রম উপদেষ্টা বলেছেন, ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত ছয় লেনের আধুনিক মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে, যা দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একই সঙ্গে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হচ্ছে আর বরিশাল থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত রেলসংযোগের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য তিনি নিজ দায়িত্বকালেই উদ্যোগ নিয়েছেন। এ ছাড়া নদীভাঙন রোধে ৮১০ কোটি টাকার প্রকল্প, বরিশালের জেল খাল দখলমুক্ত করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার, ঐতিহ্যবাহী স্টিমার ঘাট সংরক্ষণ এবং বরিশালে বিপিএল খেলা আয়োজনসহ একগুচ্ছ বৃহৎ কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দেন তিনি।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত রেলওয়ের ডিপিপি আগে থেকেই দেওয়া আছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আপাতত বরিশাল পর্যন্ত কাজ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। তবে বরিশাল থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। তাই এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত হতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। এ কারণে তার দায়িত্বকালেই পরিকল্পনাটি সম্পন্ন ও অনুমোদিত করার বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ভোলার গ্যাস নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোলার বাসিন্দারা এখনো গ্যাস পাচ্ছে না। তবে সবচেয়ে দুঃখজনক হলো রাতে কেউ অসুস্থ হলে ভোলা থেকে বরিশালে আনা কঠিন। এজন্য উদ্যোক্তাদের সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন দুটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বরিশালের জেল খাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ছোটবেলায় এই খাল দেখেছি। তখন অনেক নৌকা চলত। এটাকে বলা হতো প্রাচ্যের ভেনিস। সেই সময় আবার কমিশনার সাহেব সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে খাল পরিষ্কার করেছেন। বর্তমানে কাজ অনেকখানি এগিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, বরিশালে স্থানীয় নেতৃত্ব পর্যায়ে যারা রয়েছেন, তাদের সঙ্গে বসে খালের পাড়ে অবৈধ দখলদারদের সাথে আলাপ করব। কম্প্রোমাইজ করে খালের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাবো। খালের দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে তৈরি করা হবে। এই খালগুলো শহরের জন্য ঐতিহ্যপূর্ণ।
হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ নদীভাঙন প্রতিরোধে উদ্যোগের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ নদীভাঙন রোধে প্রায় ৮১০ কোটি টাকার টেন্ডার অনুমোদনের পথে রয়েছে। চলতি বছরের পরিকল্পনায় এটি অন্তর্ভুক্ত আছে। আমি নিজেই উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি এই শীতের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, বরিশাল নগরের মধ্যে হাতেমালি কলেজ ও বিএম কলেজের সংস্কার কাজের জন্য ছোটখাটো বরাদ্দ রয়েছে। পরবর্তীতে নতুন বড় ধরনের বরাদ্দ আসবে, যাতে হল এবং রাস্তাঘাট পুনঃনির্মাণ করা যায়।
স্টিমার ঘাট ও ঐতিহ্য রক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, বরিশালে একটি স্টিমার ঘাট ছিল। ১২৫-১৩০ বছরের পুরনো জাহাজ, যেটাকে স্টিমার বলা হতো। আশা করি অক্টোবরের মাঝামাঝি আমি নিজেই স্টিমারে চড়ে বরিশালে আসতে পারব। এটা আমাদের ঐতিহ্যবাহী জাহাজ। বিদেশে এই ধরনের জাহাজ ভেঙে ফেলা হয় না। কিন্তু বরিশালের মানুষ যা পায় তাই ভেঙে ফেলে। এগুলো রক্ষা করা উচিত। কারণ এটি পর্যটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বিপিএল খেলা আয়োজনের পরিকল্পনা তিনি বরিশালে বিপিএলের একটি খেলা আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করে জানান, খেলোয়াড়দের বিআইডব্লিউটিসির স্টিমারে করে আনা-নেওয়া ও আপ্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।