বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হচ্ছে। আমরা ফ্যাসিবাদের থেকে মুক্তি পেয়েছি। কিন্তু এখন সাম্প্রদায়িকতা উগ্র উন্মাদনা সৃষ্টি শুরু হয়েছে। যেটার মধ্য দিয়ে মব তৈরি হচ্ছে।’ গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে হিউম্যান রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশন (হিউরাফ) আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লব এবং আগামীর গণতন্ত্র ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর এ কথা বলেন।
গয়েশ্বর বলেন, ‘আমরা যদি গণতন্ত্রের পথে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে না রাখতে পারি তাহলে সাম্প্রদায়িকতা হবে ফ্যাসিবাদের চেয়ে দ্বিগুণ কঠিন। এই আধুনিক বিশ্বে মুক্ত চিন্তা, প্রতিভার বিকাশ এরা (সাম্প্রদায়িক শক্তি) হতে দেবেন না। বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধ বিশ্বাস করে। প্রত্যেকটা ধর্ম যে যেই বিশ্বাসই করুক না কেন ধর্ম কিন্তু মানুষকে সঠিক পরিচালিত করার জন্য একটা জীবনব্যবস্থা।’
তিনি বলেন, ‘এই সরকারের কোনো কাজকর্ম আছে? চোখে পড়ে? তিন-চারজন ছাড়া আর কেউ কোনো কথা বলে? মন্ত্রণালয় কেমনে চলে, কোন মন্ত্রণালয়ে কী হচ্ছে কোনো খবর রাখে। সরকারের সব চালাচ্ছে শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সেই প্রশাসন। এখন এত জামায়াত, এত বিএনপি যদি সচিবালয় থাকে তো হাসিনার সময়ে এরা থাকল কেমনে? ও (শেখ হাসিনার সরকার) তো প্রায়ই পোস্টমোর্টেম করত। পোস্টমোর্টেম করে করে বের করে দিত, তাই না।’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আজকে যে এলাকায় সব বিএনপি তাহলে আওয়ামী লীগ এতদিন ছিল কোথায়? কতগুলো মাধ্যমে (টিকটক হাবিজাবির) দেখবেন। আর মিডিয়া এমন স্বাধীন হয়েছে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাধীনতা গণতন্ত্রের মধ্যে কিন্তু দায়িত্বমূলত একটা থাকবে। মিডিয়া স্বাধীনতা যা খুশি তাই বলব, যাকে খুশি তাকে বলব। যেমন আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব, আর সোশ্যাল মিডিয়া এমন হয়েছে, আমার কথা আমি বলব, যাকে খুশি তাকে বলব, যা খুশি তাই বলব। এই স্বাধীনতা আমরা কোথায় দেব?’
গয়েশ্বর বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রথমে বলছেন, আপনার ভোট আপনিই দেবেন, আমাকে নাই-বা দেন। আপনাদের ভোটের অধিকারের আন্দোলন করছি, আমার পাশে থাকেন। কিন্তু আমরা যারা বিএনপি করি সবাই কি তারেক রহমানের মতো বলি নাকি। আমরা তো সবাই এমপি হতে চাই। আমরা কিন্তু এলাকার মধ্যে নিজেরা নিজেরা একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করি। সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে ছাইড়া দেয় কে কারে কী কয়? দোষ তাদের না, তারা আইটেম পায় ছাইড়া দেয়, ভিউয়ার বেশি হলে উপার্জন হয়, আয় হয়।’