ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সাগীর (২৬) নামের এক তরুণকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করার ঘটনায় একদিন পার হলেও এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ও ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।
পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার পর রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে, শনিবার সকালে ইসলামপুরের কর্মস্থলে যাওয়ার পথে চুনকুটিয়া হিজলতলা এলাকায় দুর্বৃত্তরা টিফিন ক্যারিয়ার হাতে সাগীরের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের বাবা আমির হোসেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা (নম্বর–৩৫) করেন।
আমির হোসেন জানান, তাঁর ছেলের মোবাইল ফোনটি ঘটনার পর আর উদ্ধার করা যায়নি। তবে শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ফোনটি সচল ছিল। পুলিশের হাতে থাকা ফুটেজে দেখা যায়, মাথায় ক্যাপ ও মুখে মাস্ক পরা কয়েকজন যুবক হাতে দা নিয়ে রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছে। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আখতার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে মনে করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনের তালিকায় অনেকের নাম রয়েছে। তবে কোনো নির্দোষ মানুষকে যাতে হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত কিছু জানানো যাচ্ছে না, তবে খুব শিগগিরই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।