নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার গোদনাইলে অবস্থিত পদ্মা ডিপো থেকে রাতের আঁধারে জ্বালানি তেল চুরি করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন)-এর নিয়ম ভেঙে ডিপো কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় লাখ লাখ টাকার তেল চুরি করা হচ্ছিল।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তেল চুরির প্রস্তুতির সময় দুটি গাড়ি আটক করে বিপিসি কর্মকর্তা ও র্যাব-১১ সদস্যরা। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের ডিপোর ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার সময় পর্যন্ত ওই দুটি গাড়ি ডিপোর ভেতরে আটক ছিল।
জানা গেছে, পদ্মা অয়েল কোম্পানি গোদনাইল ডিপো থেকে ১৩ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল মাসুদ রানা ট্রেডার্সের জন্য সরবরাহের চালান দেয়। এ সময় তেল চুরির চেষ্টা চালাতে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ডিস্ট্রিবিউশন ওনার্স এসোসিয়েশন, গোদনাইল পদ্মা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহম্মেদ ডিপো থেকে তেল লোড করার জন্য বশির ও কানা মাসুমের কাছ থেকে ১৮ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি ট্যাংকলরি ভাড়া করেন।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাড়ি দুটি ডিপোতে প্রবেশ করলে তেল লোড করার সময় বিপিসির একটি টিম গিয়ে গাড়ি দুটি আটক করে। তবে তার আগেই ১৮ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার গাড়িতে ১৩ হাজার ৫০০ লিটার তেল লোড হয়ে গেছে। ডিপো কর্তৃপক্ষ বৈধ চালান অনুযায়ী লোডের পরিমাণ হাতে লিখে দেয়। ফলে বৈধতা থাকলেও গাড়িতে তেল অতিরিক্ত লোড হয়েছে।
র্যাব-১১ সদস্যরা বৈধ কাগজপত্র যাচাই করতে গেলে ডিপো কর্তৃপক্ষ চালান দেখালেও ব্যাংক পে-অর্ডার দেখাতে ব্যর্থ হয়। র্যাব সদস্যরা কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর গাড়ি দুটি ডিপো কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রেখে যান।
সূত্রে জানা গেছে, বিপিসির নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি তেল লোড দেওয়া যাবে না। আটক গাড়িগুলোতে ৪ হাজার ৫০০ লিটার অতিরিক্ত তেল লোড হওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, যার মধ্যে একটি গাড়িতে কোনো চালান বা পে-অর্ডার ছিল না। অতিরিক্ত তেল লোড হলে প্রায় ২২ হাজার লিটার তেল চুরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, যার বাজার মূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা।
র্যাব-১১ অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘অনিয়ম তদন্তের জন্য র্যাব সদস্যরা ডিপোতে গিয়েছিলেন। অনিয়ম পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. শাকিল মাসুদকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে ডিপোর অন্য কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, রাতে র্যাব এসে তদন্ত করেছেন। কেন ১৩ হাজার ৫০০ লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন গাড়ির পরিবর্তে ১৮ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার গাড়ি প্রবেশ করেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান ও ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক মণি লাল দাসকে ফোন করলে রিং হলেও তারা রিসিভ করেননি।