সহকর্মীর নির্যাতনে ক্ষুব্ধ শিক্ষিকা, নিরাপত্তা দাবি আফরোজার

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ঝাউপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আফরোজা খাতুন সহকর্মী দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মাসখানেক আগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও এখনো রিপোর্ট জমা হয়নি।

গত ৪ আগস্ট আফরোজা খাতুন পার্বতীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসমা খাতুন ও সহকারী শিক্ষিকা তৈয়বা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে তাকে অকারণে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করছেন। আফরোজার দাবি, আসমা খাতুন দায়িত্বে থেকে প্রায়ই বিদ্যালয়ে দেরিতে আসেন এবং দায়িত্বকালীন সময়ে ঘুমিয়ে পড়েন, যার ফলে পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটে।

অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. এনামুল হক সরকার সহকারী শিক্ষা অফিসার ইউনুস আলীকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। অন্য দুই সদস্য ছিলেন সহকারী শিক্ষা অফিসার মতিয়ার রহমান নিউটন ও দোলোয়ার হোসেন। কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে নির্দেশনা দেওয়া হলেও তারা সময়ের অজুহাত দেখিয়ে এক মাসেও তা জমা দিতে পারেননি।

আজ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পার্বতীপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আফরোজা খাতুন নিজের জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেন। তিনি জানান, অভিযোগ করার পর উল্টো আসমা খাতুন আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। বাধ্য হয়ে তিনি মায়ের সঙ্গে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছেন, তবু পথে ঘাটে তাকে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে নিজের নিরাপত্তা দাবি করেন।

এদিকে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসমা খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্কেল দিয়ে আমার বিষয়ে বলা হয়েছে। এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। ওইদিন অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২৮ জানুয়ারি আমি ছুটিতে ছিলাম। সঠিক সময়ে স্কুল আসা-যাওয়া করে থাকি। স্কুল ঘুমানোর জায়গা নয়। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. ইউনুস আলী বলেন, ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হলেও তা করা যায়নি। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জেলা ডিপিও স্যারের কাছে পাঠানো হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. এনামুল হক সরকার জানান, ডিপিও স্যারের নির্দেশে মাসখানেক আগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত রিপোর্ট জমা হয়নি। হয়তো আগামীকাল তদন্ত রিপোর্ট পেয়ে যাব।