সাতক্ষীরা থেকে উঠে আসা ছোট্ট মেয়েটি বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছেন। বিচ্চুরিত হচ্ছেন স্বমহিমায়। বাবার অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করতেই কোমলমতি আফঈদা খন্দকারের ফুটবলার বনে যাওয়া। এরপর সবটাই যেন হচ্ছে স্বপ্নের মতো। বিকেএসপি থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে। বয়সভিত্তিক দলে শুরু। এরপর জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া। ২০২৪ সালে সাফ জয়ে বড় ভূমিকা রাখা। সুবাদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক স্বীকৃতি একুশে পদক অর্জন। এরপর মেঘ না চাইতে বৃষ্টির মতোই সিনিয়র জাতীয় দলের নেতৃত্ব। আবার তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের ইতিহাসে নাম লেখানো; প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে পা রাখা। এর পরের মাসেই বাছাই উতরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের মূল পর্বে যাওয়াটাও তার নেতৃত্বে। এত কম বয়সে এত এত অর্জনের পর আফঈদা এখন তারুণ্যের রোল মডেল।
তাই সরকারও সামাজিক ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তার হাতে তুলে দিয়েছে ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড। সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাত থেকে এই পুরস্কার নিয়েছেন আফাঈদা। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ বছর কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ১২ জন তরুণকে দিয়েছে ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড। আফঈদা স্বীকৃতি পেয়েছেন ক্রীড়া, কলা ও সংস্কৃতি ক্যাটাগরিতে। এই ক্যাটাগরিতে বান্দরবানের উছাই মং মারমাও পেয়েছেন স্বীকৃতি।
ফুটবল জীবনটা এভাবে বদলে দেবে, আফঈদা কল্পনাও করেননি। দেশ রূপান্তরের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে একটু যেন আবেগী হয়ে পড়লেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘কখনোই কল্পনা করিনি এত কম বয়সে এত এত সম্মানে ভূষিত হব। বয়সভিত্তিক দলে অধিনায়কত্ব করেছি। কখনোই ভাবিনি এই বয়সে সিনিয়র দলের দায়িত্ব নিতে হবে। বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ফুটবলার হয়েছি। তার অনুপ্রেরণাতেই এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি। এসব স্বীকৃতি দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয় অনেক। আগামীর দিনগুলোতে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, যাতে নিজেকে আরও ওপরে নিয়ে যেতে পারি এবং দেশের সুনাম বাড়াতে পারি।’
খুব অল্প সময়েই সরকারপ্রধানের সঙ্গে বারবার সাক্ষাৎ ঘটছে আফঈদার। সাফ জিতে আসার পর প্রথম দেখা হয়েছিল। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হয়ে গিয়েছিলেন কাতারে। একুশে পদক অনুষ্ঠানেও দেখা হয়েছিল নোবেল বিজয়ীর সঙ্গে। সোমবার এই স্বীকৃতি নিতে গিয়ে অবাকই হয়েছেন সরকারপ্রধানের কথায়, ‘স্যার আমাকে ঠিকই মনে রেখেছেন। বলেছেন, তোমার সঙ্গে তো বারবার দেখা হয়ে যাচ্ছে! ওনার মতো মানুষ আমাকে মনে রেখেছেন, এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে! আমার এই অর্জনের জন্য বাবা-মা, পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও সমর্থকদের অনেক অবদান। তাদের জন্যই আমি এখানে আসতে পেরেছি, যা আমাকে আরও ভালো করার সাহস জোগাবে।’
সামনে বড় পরীক্ষা দিতে হবে আফঈদা ও তার দলকে। আগামী বছর মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে হবে এশিয়ান কাপের মূল পর্ব। সেটার প্রস্তুতি অচিরেই শুরু হবে কোচ পিটার বাটলারের অধীনে। আফঈদা বলেন, ‘আগের চেয়ে আমি মানসিকভাবে অনেক বেশি প্রস্তুত। বিশেষ করে দুটি বাছাই পর্বে শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেছি। তাছাড়া ভুটানের দলের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে উত্তর কোরিয়ার দলের বিপক্ষে খেলেছি। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এশিয়ান কাপে আমাদের খেলতে হবে। এই অভিজ্ঞতা অনেক কাজে দেবে। আমরা সেরা প্রস্তুতি নিয়েই অস্ট্রেলিয়া যাব।’