এনবিআরের মতিউর ও তার স্ত্রীকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ লাকীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুপুরে ১২টার দিকে তাদের দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক সাবিকুন নাহার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনটার দিকে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

দুদকের তথ্যমতে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুদক কর্মকর্তা উপ-সহকারী পরিচালক সাবিকুন নাহার আসামি মতিউর ও লায়লা কানিজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দুদকের তথ্যমতে, অবৈধ সম্পদের অভিযোগে গত ৬ জানুয়ারি এনবিআরের সাবেক সদস্য মতিউর রহমান, তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ, মেয়ে ফারজানা রহমান ইপ্সিতা এবং ছেলে তৌফিকুর রহমান অর্ণবের বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা করে দুদক।

এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আক্তার শিবলীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গতকাল মতিউর রহমান ও তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জানা গেছে, কোরবানির জন্য ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কিনতে গিয়ে আলোচনায় আসেন মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক যুবক। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। তখন জানাজানি হয় মুশফিকুর রহমান ইফাতের পিতা এনবিআর সদস্য এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট মতিউর রহমান। এরপরই একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে মতিউর রহমান ও তার পরিবারের বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের তথ্য। গত বছরের ৪ জুন দুদক এ অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধানে নামে। এরপর গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আক্তার এবং গত ৬ জানুয়ারি মতিউর রহমান, তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ ও তাদের ছেলে-মেয়ের নামে মোট ৫টি মামলা করে দুদক।

দুদকের তথ্যমতে, অবৈধ সম্পদের অভিযোগে গত ৬ জানুয়ারি এনবিআরের সাবেক সদস্য মতিউর রহমান, তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ, মেয়ে ফারজানা রহমান ইপ্সিতা এবং ছেলে তৌফিকুর রহমান অর্ণবের বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা করে দুদক।