কেরানি থেকে কোটিপতি কিশোরগঞ্জের একরামুল

কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক একরামুল হক প্রায় ৫০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ছিলেন সাধারণ অফিস সহায়ক। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, নিয়োগবাণিজ্য আর ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। কৃষকের সন্তান হিসেবে হাওরে মৌসুমি জিরাতি পরিবারের ছায়ায় বড় হয়েছেন, আজ তার ঝুলিতে তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গার দক্ষিণ শাহবাগ গ্রামে তিন হাজার শতক জমিতে মাছের ফিশারি, গরুর ফার্ম, বিদেশি জাতের ৫০টির বেশি গরু, ফসলি জমি, শহরের বকুলতলায় ১০ শতক জায়গায় ফ্ল্যাট বাসা, উকিল পাড়াতে চারতলা বাসা, সৈয়দ নজরুল মেডিকেলের পাশে ২০ শতাংশ জমি, গ্রামের বাড়িতে রয়েছে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের দোতলা কমপ্লিট ভবন, জমি আর প্রাসাদোপম বাড়ি।

আওয়ামী শাসনামলে নেতা-মন্ত্রীদের তদবির করে একই জায়গায় একটানা ১৫ বছর চাকরি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি। একরামুলের বাবা নেত্রকোনার খালিয়াজুরি হাওরে মৌসুমি জিরাতি হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের ছিল কৃষিকাজ ও ধানের ব্যবসা। কয়েক বছরের মধ্যেই একরামুলের হাতে আসে বিপুল সম্পদ।

তদন্তে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক ছিলেন একরামুল। প্রথম পোস্টিং ছিল ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানেই তার অবৈধ আয়ের যাত্রা শুরু। কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে বদলি হয়ে আসার পর তিনি নিয়োগবাণিজ্যে জড়ান। তারপর প্রশ্ন ফাঁস করা ও টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার ব্যবসা শুরু করেন। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রতি নিয়োগে প্রচুর টাকা নিতেন, ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। অনেকে তার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন। একরামুলের উত্থানে বড় ভূমিকা রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম টিটু। টিটুর ঘনিষ্ঠ হিসেবেই তিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি হন। তার ক্ষমতার দাপট আরও বেড়ে যায়।

একসময় ১০০ জনকে ছাঁটাই করায় বিক্ষোভ হয় হাসপাতালের সামনে। টিটুর প্রতাপে একরামুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার অবৈধ সম্পদের খোঁজখবর নিতে গেলে সাংবাদিকদেরও টাকার প্রলোভন দেখানো হয়। এতে কাজ না হলে চাপ সৃষ্টি করে খবর প্রকাশ ঠেকানো হয়।

একরামুলের এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনেই একরামুল কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুদক কি ঘুমিয়ে আছে?’

সংশ্লিষ্টরা বলেন, দুদক, গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রশাসনের দায়িত্ব এখনই একরামুলের বিরুদ্ধে তদন্তে নামা।

এ বিষয়ে একরামুল হক বলেন, ‘এসব সম্পত্তি আমার নিজস্ব। আপনার যা ইচ্ছা তাই লেখেন। আমার আর চাকরি করার প্রয়োজন নেই। আমার ছেলে নেই, আমার চার মেয়ে; আমার চাকরির কী দরকার?’