কোনো হুঙ্কারেই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে না: ডা. জাহিদ হোসেন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, “যদি আমরা জনগণকে গনতন্ত্রের পক্ষে এবং ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি, তাহলে কোনো হুঙ্কারই আগামী ফেব্রুয়ারীর জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্থ করার ক্ষমতা রাখে না।”

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত হিলি কাস্টমস সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনে উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, “অনেকেই এখনো ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন চেষ্টা চলছে। ঐক্যমত কমিশনের আলোচনা এখনও চলছে। পরশুদিন প্রধান উপদেষ্টা সকলকে নিয়ে আলোচনা করেছেন। কেউ কেউ রাজপথে নামার হুঙ্কার দিচ্ছেন, কিন্তু হুঙ্কার দেওয়া কোনো সমস্যা নয়। গনতান্ত্রিক রাজনীতিতে হুঙ্কার দেওয়া স্বাভাবিক।”

তিনি আরও বলেন, “শেষ বিচারে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। তারা কার পাশে থাকবে, কার দিকে যাবে তা তারা নির্ধারণ করবে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়, দেশের মালিকানা চায়, তাদের অধিকার চায়। জনগণ অন্যায় ও অত্যাচারের বিচার চায়, লুন্ঠনকৃত অর্থ ফেরত আনতে চায়, পাখির মতো গুলি করে যে সকল ভাইদের হত্যা করেছে তাদের বিচার চায়। জনগণ ফ্যাসিবাদের বিচার চায়। জনগণ চাইবে না যে নির্বাচন বা বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয় এবং স্বৈরাচারের পুনর্বাসন ঘটে। যারা বিভিন্নভাবে হুঙ্কার দিচ্ছেন, তারা কার্যত স্বৈরাচারকে পুনর্বাসনের রাস্তা প্রশস্ত করছেন।”

ডা. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, “আমরা যারা ৫ই আগস্ট স্বৈরাচার সরকারকে বিতাড়িত করতে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, আমরা ঐক্যবদ্ধই থাকব। জনগণের পাশে থাকব, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতকে শক্তিশালী করব, এবং মধ্য ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে যে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কার হাতে থাকবে। এতে গনতন্ত্র বাস্তবায়িত হবে, বিচার হবে, লুন্ঠিত অর্থ ফেরত আসবে। একই সঙ্গে আজকে যে মবসন্ত্রাস করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা রোধ হবে। স্বৈরাচারের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে।”

সভায় হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি শাহিনুর ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হকসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।