অস্কারজয়ী অভিনেতা, পরিচালক এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রের পথপ্রদর্শক (সানড্যান্স ফেস্টিভ্যালের প্রতিষ্ঠাতা) রবার্ট রেডফোর্ড ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন।
তার জনসংযোগ কর্মকর্তা সিন্ডি বার্জার মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানান, রেডফোর্ড তার প্রিয় স্থান উটাহ রাজ্যের পর্বতমালার সানড্যান্সে নিজের বাড়িতে, প্রিয়জনদের মাঝে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
তবে মৃত্যুর কোনো কারণ জানানো হয়নি।
রেডফোর্ডের অভিনিত সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে অল দ্য প্রেসিডেন্টস’ ম্যান ও বুচ ক্যাসিডি অ্যান্ড দ্য সান্ডেন্স কিড। সিনেমা দুটিতে তার অভিনয় দক্ষতা ক্লাসিক হিসেবে সমাদৃত।
১৯৬৯ সালের হিপি ওয়েস্টার্ন বুচ ক্যাসিডি অ্যান্ড দ্য সান্ডেন্স কিড সিনেমায় পল নিউম্যানের সঙ্গে তার যুগল অভিনয় তাকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়। সোনালি চুল আর ফ্রিকলওয়ালা মুখের আকর্ষণীয় এই নায়ক তৎক্ষণাৎ হলিউডের হার্টথ্রব হয়ে ওঠেন।
পরে তিনি আউট অব আফ্রিকাতে রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক প্রিয়তা পেয়েছেন। দ্যা ক্যান্ডিডেট ও অল দ্য প্রেসিডেন্টস’ ম্যান সিনেমায় রাজনৈতিক চরিত্রেও গভীরতা দেখিয়েছেন, আবার দ্য ইলেক্ট্রিক হর্সম্যান সিনেমায় মদ্যপ প্রাক্তন রোডিও চ্যাম্পিয়নের চরিত্র কিংবা ইন্ডিসেন্ট প্রপোজালে মধ্যবয়সী ধনী পুরুষের ভূমিকায় নিজের রোমান্টিক নায়ক ইমেজও ভেঙেছেন।
১৯৩৬ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্ম নেওয়া রেডফোর্ডের বাবা ছিলেন দুধওয়ালা, আর মা ছিলেন গৃহিণী। ২০১৪ সালে হলিউড রিপোর্টার-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় নিয়ম ভাঙার মানুষ ছিলাম। লস অ্যাঞ্জেলেস ছেড়ে যেতে চেয়েছিলাম কারণ মনে হয়েছিল শহরটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি যেখানে ছিলাম সেখানেই অস্বস্তি বোধ করতাম। আমি স্বাধীন হতে চাইতাম।’
তিনি কখনো সেরা অভিনেতার অস্কার জিততে পারেননি, তবে পরিচালক হিসেবে প্রথম ছবি অর্ডিনারি পিপল সেরা ছবি ও সেরা পরিচালকের ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতে নেয়। যদিও পল নিউম্যানের সঙ্গে তার কেমিস্ট্রি অসাধারণ ছিল তবে তারা আর কখনো একসঙ্গে কাজ করেননি। নিউম্যান মারা যান ২০০৮ সালে।
নীলচোখের রেডফোর্ডকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিলেও তিনি খ্যাতি কিংবা আইডল ইমেজে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না। নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিনকে তিনি বলেছিলেন, ‘মানুষ আমার চেহারা নিয়েই এত ব্যস্ত থেকেছে যে আমি আত্মসচেতন এক টুকরো জীবন্ত প্রোটোপ্লাজম হয়ে যাইনি, সেটাই বিস্ময়কর। রবার্ট রেডফোর্ড হওয়া সহজ নয়।’
ব্যক্তিগত জীবন খুব গোপন রাখতেন রেডফোর্ড। ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে উটাহর প্রত্যন্ত এলাকায় পরিবারসহ থাকার জন্য জমি কিনেছিলেন। সেখানেই নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিজের মতোই কাটাতেন।
প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ২৫ বছরের বেশি দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছে ঘটে ১৯৮৫ সালে। তাদের চার সন্তান ছিল; এক ছেলে জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই মারা যায়, আরেক ছেলে মারা যায় ২০২০ সালে। তিনি রেখে গেছেন দুই মেয়ে ও জার্মান শিল্পী সিবিলে শ্যাজার্সকে যাকে তিনি ২০০৯ সালে বিয়ে করেছিলেন।
রাজনীতিতে তার আগ্রহ শুরু হয় কৈশোরে মায়ের মৃত্যু পরবর্তী ইউরোপ ভ্রমণ থেকে—বিশেষ করে স্পেন, ইতালি ও ফ্রান্সে অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে। তবে সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করেননি কখনো। তবুও সবসময় উদারপন্থী মত প্রকাশ করেছেন। ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময় এস্কয়ার ম্যাগাজিনকে তিনি বলেছিলেন, ‘রাজনীতি এখন ভীষণ অন্ধকার জায়গায় আছে, আর ট্রাম্পের উচিত আমাদের কল্যাণের জন্য সরে দাঁড়ানো।’
২০০১ সালে রবার্ট রেডফোর্ড সম্মানসূচক আজীবন অর্জন অস্কার লাভ করেন।
তার মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘রবার্ট রেডফোর্ডের ক্যারিয়ারে এমন সময় কাটিয়েছেন যখন তার থেকে ভালো কেউ ছিল না। এক সময় তিনি সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিলেন। আমি মনে করি তিনি দুর্দান্ত ছিলেন।’