ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এক যুগের মতো সময় জ্বলে ওঠা এক নাম—কেভিন ডি ব্রুইনে। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার বলে ধরা হয় যাকে, সেই বেলজিয়ানকে এবার সিটিই জানিয়ে দিল—নতুন চুক্তি নয়। বয়স ৩৩, এখনও খেলার জন্য ক্ষুধার্ত ডি ব্রুইনের কাছে এ যেন ছিল ব্যক্তিগত প্রত্যাখ্যান। আর সেটাই জ্বালানি হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর পরবর্তী লড়াইয়ের প্রেরণা।
১৪ বছর বয়সে ঘর ছেড়ে জেনকের একাডেমিতে ওঠা। হোস্ট পরিবারের সঙ্গে দুই বছর কাটানোর পর হঠাৎ ডি ব্রুইনে শুনলেন—“তুমি খুব নিষ্প্রভ, তাই আর এখানে থাকা যাবে না।” সেই প্রত্যাখ্যানই তাঁকে বদলে দিয়েছিল। প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ঘরে ফিরবেন কেবল সফল হয়েই। মাত্র ১৬ বছর বয়সে জেনকের মূল দলে সুযোগ করে তা প্রমাণ করেছিলেন।
পরবর্তী অধ্যায়ও ভরা প্রত্যাখ্যান আর প্রত্যাবর্তনের গল্পে। চেলসিতে যোগ দিয়েও উপেক্ষিত হলেন, কিন্তু ভলফসবুর্গে নিজেকে প্রমাণ করে ২০১৫ সালে ৫৫ মিলিয়ন পাউন্ডে সিটিতে ফিরলেন। সমালোচকদের চুপ করিয়ে সিটিকে বানালেন ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সফল দল।
৯ বছরে ১৬টি শিরোপা, ৪২২ ম্যাচ, অসংখ্য গোল-অ্যাসিস্ট—সব কিছুর পরও সিটি হঠাৎ জানাল, নতুন চুক্তি হবে না। শারীরিক সমস্যায় (পেলভিস ইনজুরি) কিছু ম্যাচ মিস করলেও ডি ব্রুইনে বিশ্বাস করতেন তিনি এখনও সেরা পর্যায়ে খেলতে সক্ষম। সুতরাং এমএলএস নয়, বেছে নিলেন নাপোলিকে—চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার জন্য, এবং নিজের প্রমাণের জন্য।
আজ আবার ইতিহাসে ফিরছেন সিটির বিপক্ষে খেলবেন বলে। লক্ষ্য পরিষ্কার—প্রমাণ করা, সিটির আধিপত্যের যুগ আসলে কার কাঁধে দাঁড়িয়ে গড়া হয়েছিল।
ডি ব্রুইনে না থাকলে সিটির কি হতো?
পেপ গার্দিওলা আর্কিটেক্ট হতে পারেন, কিন্তু শিল্পী ছিলেন ডি ব্রুইনে। সার্জিও আগুয়েরো, ডেভিড সিলভা কিংবা ইয়ায়া তুরের মতো তারকারা এসেছেন-গেছেন, কিন্তু স্থায়ী ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন কেবল তিনিই।
# ২০২১–২২ মৌসুমে শেষ ১১ ম্যাচে ১৪ গোল ও অ্যাসিস্ট—যা না হলে লিভারপুলের কাছে শিরোপা হারাতে হতো।
# আর্সেনালের বিপক্ষে এমিরেটসে তাঁর একক নৈপুণ্যই প্রায় মুছে দিয়েছিল আর্তেতার শিরোপার আশা।
# হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে চার মাস পর ফিরেই নিউক্যাসলের মাঠে ২১ মিনিটে এক গোল-এক অ্যাসিস্ট দিয়ে সিটিকে আবার ছন্দে ফেরান, যা নিয়ে আসে ৭ বছরে ষষ্ঠ শিরোপা।
ডি ব্রুইনে আগেও প্রমাণ করেছেন তার কোনো বিকল্প নেই। তথ্য-উপাত্তের সাহায্যে নতুন চুক্তি আদায় করা সেই ২০২১ সালেই দেখিয়েছিলেন তিনি কতটা মূল্যবান। এবার তিনি চাইবেন মাঠেই শেষ কথা বলতে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের আজ রাতে ডি ব্রুইনের লক্ষ্য সহজ—সিটিকে মনে করিয়ে দেওয়া, কেন তাঁকে প্রতিস্থাপন করা অসম্ভব।