জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নবনির্বাচিত নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে জাকসুর সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় জুলাই আন্দোলনে সাভারে নিহত শহীদ আলিফ আহমেদ সিয়াম ও শহীদ শ্রাবণ গাজীর পরিবারের সদস্যরা এবং শহীদ মিজানুর রহমানের স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক থেকে পাঠ করা হয়। এরপর জাকসু নির্বাচনের ভোট গণনায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণকারী চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস মৌমিতার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শপথ পাঠের পর উপাচার্য নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেন।
জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘এ নির্বাচনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জয়ী হয়েছে। নির্বাচনের সব ফুটেজ সংরক্ষিত আছে। অনিয়ম নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে আমরা প্রস্তুত। অতিরিক্ত ব্যালট পেপারের হিসাব আমাদের কাছে আছে। যেখানে ৩৮২টি ব্যালট প্রয়োজন ছিল, সেখানে ৪০০টি দেওয়া হয়েছে। অব্যবহৃত ব্যালটের হিসাবও রাখা আছে।’
জাকসুর নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘৩৩ বছর জাকসু না থাকায় সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ছিল না। সিনেট অধিবেশন হলেও শিক্ষার্থীদের পক্ষে কেউ কথা বলেনি। আমরা নেতা হতে আন্দোলন করিনি, বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন করেছি। আমরা সেই অধিকার ছিনিয়ে এনেছি। জাকসু বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অধিকারের বিরুদ্ধে যারা বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে এমন আন্দোলন গড়ব, যা এ বিশ্ববিদ্যালয় কখনো দেখেনি। অতীতে রক্তচক্ষুকে ভয় পাইনি, ভবিষ্যতেও পাব না। ভোটের মাধ্যমে আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করব।’
জাকসুর সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘শপথগ্রহণ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি যদি আনুষ্ঠানিকতা হতো, জাকসু নির্বাচন হতো না। ২০২৪-এর অঙ্গীকার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। বাংলাদেশে গণতন্ত্র হারিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছে। এ নির্বাচন জাতীয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এটি চেষ্টা করেছে। আমাদের প্রশাসন অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল, দায়িত্ব পালনে কোনো বিকল্প নেই।’
গত ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৫টি পদে ২৫ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন।