তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জেরুজালেমের গ্রিক অর্থোডক্স প্যাট্রিয়ার্ক তৃতীয় থিওফিলোস জিয়ানোপোলস। ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে এরদোয়ানকে একটি ফ্রেমবন্দি প্রতিলিপি উপহার দেন জেরুজালেমের খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ এই নেতা।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর এরদোয়ান ইস্তানবুলের দোলমাবাহচে প্রাসাদে জিয়ানোপোলস ও তার প্রতিনিধিদলকে গ্রহণ করেন।
উপহার হিসেবে প্রদান করা এই প্রতিলিপিটি মূলত ৬৩৮ সালে মুসলমানদের জেরুজালেম জয় করার পর খলিফা হযরত উমর (রা.) কর্তৃক খ্রিস্টানদের দেওয়া ঐতিহাসিক চুক্তি। সেসময় খ্রিস্টানরা আত্মসমর্পণ করার পর খলিফা উমর চুক্তিপত্রটি বাইজেন্টাইন শাসনের নেতা প্যাট্রিয়ার্ক সোফ্রোনিওসকে দিয়েছিলেন।
এই চুক্তির মাধ্যমে মূলত মুসলমানদের বিজয়ের পর জেরুজালেমের খ্রিস্টান ও তাদের পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল। এর মধ্যে রয়েছে জেরুজালেমের চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার এবং বেথলেহেমের ব্যাসিলিকা অব দ্য নেটিভিটি।
দোলমাবাহচে প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্যাট্রিয়ার্ক সপ্তম শতকে জেরুজালেমের প্যাট্রিয়ার্ক সোফ্রোনিওস ও খলিফা উমর ইবনে খাত্তাবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তির উত্তরাধিকার স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এ চুক্তি খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থান ও প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছিল এবং পরবর্তীতে ওসমানীয় আমলে তা ‘স্ট্যাটাস কো’ (কোনো একটা পরিস্থিতি যেমন আছে তেমনই চলতে দেওয়ার কূটনৈতিক অবস্থা’ ব্যবস্থায় রূপ নেয়। এর ফলে এখনো জেরুজালেমের বহুধর্মীয় সহাবস্থান চলে আসছে।
জেরুজালেমের প্যাট্রিয়ার্ক চার্চ প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এ বিষয়ে সমর্থন জানানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মুসলিম নেতারা ঐতিহাসিকভাবে খ্রিস্টান সম্প্রদায় ও পবিত্র স্থান রক্ষার দায়িত্ব ভাগাভাগি করেছেন। বর্তমানে এ দায়িত্ব বিশেষভাবে পালন করছেন জর্ডানের হাশেমাইটরা।