কারাগার থেকে পালানো ফাঁসির আসামি গ্রেপ্তার

জুলাই অভুত্থানের আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরের দিন আক্রমণ হয় কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার। আসামি ছিনতাই চেষ্টার পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করা হয় কারাগারের আশপাশে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তখন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া একজন মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। তার নাম সাকিব ওরফে বাবু। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁও থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শরীয়তপুরের জাজিরার শিক্ষার্থী শাকিল মাদবরকে হত্যার পর পুঁতে রাখার ঘটনায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত হয়েছিলেন। গতকাল শুক্রবার এটিইউর পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস উইং) ব্যারিস্টার মাহফুজুল আলম রাসেল এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও তেজতুরি বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা চালিয়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জেল পলাতক আসামি বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ও তার সহযোগীরা ২০২০ সালের ২৫ জুন যোগসাজশে জাজিরা থানাধীন পূর্ব নাওডোবা হাজী কালাই মোড়লের কান্দি গ্রামের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাকিল মাদবরকে অপহরণ করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন। কিন্তু মুক্তিপণ না পাওয়ায় তারা শাকিলকে হত্যা করে মরদেহ নির্মাণাধীন রেলসেতুর পাশে পুঁতে রাখেন। ওই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে জাজিরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হয়। মামলার তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরে আদালত বিচারকার্য সমাপ্তির পর গ্রেপ্তার আসামি বাবুকে মৃত্যুদ- প্রদান করে। তিনি ওই মামলায় কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে আটক ছিলেন।

ব্যারিস্টার মাহফুজুল আলম রাসেল আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরকার পতনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগে আসামি বাবু গত বছরের ৬ আগস্ট কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় কর্তৃপক্ষ কোনাবাড়ী থানায় মামলা করে। গ্রেপ্তার বাবুকে কোনাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।