চীনকে মোকাবেলায় বাগরাম বিমান ঘাঁটি ফের নিয়ন্ত্রণে নিতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। কৌশলগত কারণে এই বিমান ঘাঁটির ওপর গুরুত্বারোপ করে একে ফিরে পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আফগানিস্তানে যেকোনো ধরনের মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে চীন।
২০২১ সালে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই বছরের ৩০ আগস্ট শেষ মার্কিন সেনারও আফগানিস্তান ত্যাগের মধ্য দিয়ে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তখন কাবুলের দক্ষিণে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাগরাম বিমান ঘাঁটিও ছাড়তে হয় ওয়াশিংটনকে।
কিন্তু এখন, কয়েক বছর পর, আবারও সেই বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মার্চ মাস থেকেই বাগরাম ঘাঁটি ফিরে পেতে তৎপরতা চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিমান ঘাঁটিটি পুনরায় দখলে নেয়ার চেষ্টার কথা স্বীকার করেন ট্রাম্প। চীনের নিকটবর্তী হওয়ায় কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাঁটি কোনো ধরনের বিনিময় ছাড়াই তালেবানের হাতে ছেড়ে আসাকে ভুল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ওয়াশিংটনের এই পরিকল্পনাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান সরকার। যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোভাবেই এই বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিতে দেয়া হবে না বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে তারা। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জাকির জালালি জানান, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা প্রেরণের বিষয়টি ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত কাবুল।
তিনি বলেন, আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের একে অপরের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। তবে সেটি হতে হবে আফগানিস্তানের ভূমিতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি ছাড়াই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাধারণ স্বার্থের ভিত্তিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী কাবুল।
ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে না চীনও। শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ ও ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার কেবল আফগান জনগণের হাতেই থাকা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে চীন সর্বদা সম্মান করে আসছে। আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার আফগান জনগণের হাতেই থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘাত সৃষ্টির কোনো প্রচেষ্টা মেনে নেয়া হবে না।