সারিয়াকান্দিতে টানা বৃষ্টিতে ডুবছে মরিচের চারা

বগুড়া সারিয়াকান্দিতে গত কয়েকদিন ধরেই যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মরিচ ও বিভিন্ন ধরনের সবজিসহ ফসলহানির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) যমুনার পানি বিপদসীমার মাত্র ৮০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ যাত্রায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছে বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেইসাথে বাড়ছে বাঙালি নদীর পানিও।

বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শনিবার যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকালে সারিয়াকান্দি মথুরাপাড়া পয়েন্টে এ নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৫.৪৫ মিটার।

এদিকে যমুনার সাথে এ উপজেলা বাঙালি নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। শনিবার বাঙালী নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৩.৩৬ মিটার। ২৪ ঘন্টায় এ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫ সেন্টিমিটার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার নীচু জমিতে পানি জমেছে। এসব জমিতে কৃষকরা মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, বিভিন্ন জাতের সবজি, স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা, মাসকলাইসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করেছেন। টানা বৃষ্টিতে কৃষকদের এসব জমিতে পানি জমেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সদ্য রোপণ করা বা বেড়ে ওঠা হাইব্রিড জাতের মরিচ।

উপজেলার শনপচা, নান্দিনার চর, মূলবাড়ী, জামথল, মানিকদাইড়, পাকুরিয়া, চালুয়াবাড়ীসহ বেশকিছু চরের কৃষকদের মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। যমুনার পানি এবং বৃষ্টির পানিতে উপজেলার বেশকিছু এলাকায় সদ্য বেড়ে ওঠা স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধান পানিতে আক্রান্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, সারিয়াকান্দির যমুনার বিভিন্ন চরাঞ্চলে কৃষকেরা জমিতে মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ শুরু করেছিলেন। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নীচু এলাকার ফসল পানিতে আক্রান্ত হয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার মরিচ, ধানসহ বেশকিছু ফসল পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। বৃষ্টি কমে গিয়ে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফসলগুলো নষ্ট না হয়ে উত্তোরন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক মাঠ তদারকি চালিয়ে যাচ্ছি।

বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢল এবং ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বগুড়ায় বিভিন্ন নদীর পানি পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আরও কয়েকদিন পানিবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা খুবই কম।