একসপ্তাহ পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে মন্দিরগুলোতে চলছে শেষ পর্যায়ের প্রতিমা রং ও সাজসজ্জার কাজ। তুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গার প্রকৃত রুপ ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। পূজা উদযাপনে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে উদযাপন কমিটি। এদিকে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে সবধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্টিপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজাকে ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকা হিলিতে এবারে ১৯টি মন্দিরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। ইতোমধ্যেই মন্দিরগুলোতে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি শেষে চলছে প্রতিমা রং ও সাজ-সজ্জার কাজ। সময় ঘনিয়ে আসায় খাওয়া-দাওয়া ভুলে তুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গার প্রকৃত রূপ ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। ঠিক যেন দম ফেলানোর ফুসরত নেই তাদের। তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়ায় আয় কমায় বিপাকে পড়েছেন কারিগরররা। মজুরি কমের কারণে না পোষানোয় বাপ-দাদার এই পেশা ছাড়ছেন অনেকে। এবারে দোলায় চড়ে দেবী দুর্গার মর্তে আগমন ঘটবে আর গজে গমন করবেন কৈলাশে।
প্রতিমা তৈরির কারিগর রক্তিম পাল বলেন, বর্তমানে প্রতিমা রংয়ের কাজ আমাদের শেষ পর্যায়ে শুধুমাত্র ফিনিশিং দেওয়ার কাজ বাকি রয়েছে। এখন আমরা প্রতিমার সাজসজ্জার যেসব কাজ রয়েছে যেমন অলংকার চুল লাগানো সেগুলো করছি। আজকালের মধ্যে এই মন্দিরের কাজ শেষ করে অন্য মন্দিরে চলে যাব। এ নিয়ে আমরা খুব ব্যস্ত সময় পার করছি।
প্রতিমা তৈরির কারিগর ছিদাম পাল বলেন, এবারে আমি ৬টি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। এর মধ্যে ৩টির কাজ ইতোমধ্যেই শেষ করে কমিটির নিকট বুঝিয়ে দিয়েছি। আরও ৩টি প্রতিমার রংয়ের কাজ বাকি। এর মধ্যে এখন যেখানে কাজ করছি এটির রংয়ের কাজ প্রায় শেষ শুধু কমপ্লিট দেওয়া বাকি রয়েছে। আশা করছি আজ রাতের মধ্যেই শেষ করে কমিটির নিকট বুঝিয়ে দেব।
চন্ডিপুর সার্বজনীন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ বসাক জানান, ইতোমধ্যেই আমাদের মন্দিরে প্রতিমা রংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে মন্দির সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ চলছে। আমরা ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। সময়মতো সকল কাজ শেষ হয়ে যাবে। আশা করছি বৃষ্টি কমে গেলে পূর্বের ন্যায় ব্যাপক লোকসমাগম হবে বলেও আশা করছি। খারাপ কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সুন্দরভাবে পূজা উদযাপন করতে পারব।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, সীমান্তবর্তী শহর হিলিতে শারদীয় দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণভাবে ও নির্বিঘ্নে উদযাপন করতে পারে সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে বৈঠক করেছি। সকল মন্দিরের বিপরীতে অফিসারসহ ফোর্সদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিত পরিদর্শনসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছেন। পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশসহ সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ নিয়োজিত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।