কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎই আমদানি নির্ভরতা কমাতে পারে। এজন্য দরকার দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানো। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে বিদেশ নির্ভর না হয়ে দেশেই উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। যে তরুণ প্রজন্ম দেশের একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন করেছে সেই প্রজন্মই পারে সাহসিকতার সঙ্গে দেশ পরিচালনায় অংশ নিতে। তবে সবার আগে দুর্নীতিকে না বলা শিখতে হবে।
আজ শনিবার সকালে খুলনা প্রেস ক্লাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে ক্যাবের এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল আলোচক ছিলেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে শতকরা ৮৫ ভাগ জ্বালানিই আমদানি নির্ভর। অথচ এদেশের শুধুমাত্র ছাদেই তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। এজন্য দরকার শুধু পরিকল্পনা। উপকূলীয় এলাকায় রয়েছে বায়ু ও পানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগও। সুতরাং এসব বিষয় নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে ভাবতে হবে। দেশের উন্নয়নে জ্বালানি খাত একটি বড় বিষয় উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এ খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্নীতি কমাতে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছয়টি বিষয়ে পৃথক আলোচনা করেন। জ্বালানি অধিকার সংরক্ষণে ক্যাব প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি-২০২৪ বিষয়ে আলোচনা করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মিস নওশিন জাহান তাকিয়া, জীবাশ্ম ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন বিষয়ে কুয়েটের শিক্ষার্থী অনন্য হাবিব আকাশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাজার উন্নয়নে সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা বিষয়ে কুয়েটের মিস সামিয়া আক্তার, জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বিষয়ে রাবির শিক্ষার্থী এম আর বি ত্বাসিন, মূল্যহার নির্ধারণে ভোক্তা ও বিইআরসি বিষয়ে ঢাবির শিক্ষার্থী সাবাত মোস্তফা প্রথুন এবং জ্বালানি সরবরাহে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ও লুণ্ঠনমূলক মুনাফা বিষয়ে আলোচনা করেন ঢাবির শিক্ষার্থী মিস নাজিফা তাজনুর।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন, ক্যাব খুলনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম. নাজমুল আযম ডেভিড ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন গবেষণা সমন্বয়ক প্রকৌশলী শুভ কিবরিয়া।