ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মোহাম্মদপুরে অপরাধের চরম বিস্ফোরণ ঘটে। যেসব অপরাধী বাইরে ছিল তারাও চলে এসেছে। তারপর আমরা লাগাতার মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে আসছি। গত ছয় থেকে সাত মাসে আমরা তিন হাজারের বেশি অপরাধীকে আইনের আওতায় এনেছি। আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিদিন যেসব এলাকায় অপরাধীদের বিচরণ রয়েছে সেখানে অভিযান পরিচালনা করতে। এর ফলে বেশি অপরাধ হওয়া জায়গায় অপরাধ কমে গেছে। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। আশা করি পরিস্থিতি আরও ভালো হবে। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।
মো. ইবনে মিজান জানান, মাদক ও সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্য খ্যাত জেনেভা ক্যাম্পে গত শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদককারবারি, বিক্রেতা, অস্ত্রের জোগানদাতা ও ককটেল সংরক্ষণকারীসহ ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৮টি ককটেল, ২টি পেট্রোল বোমা, ৬টি সামুরাই, ৫টি হেলমেট, ৩টি ছুরি, ১১টি চোরাই মোবাইল ফোন এবং ৫০০ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে অনেকে জেনেভা ক্যাম্পের মাদক কারবারি বুনিয়া সোহেল, পিচ্চি রাজা, চুয়া সেলিমের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেকের নাম উঠে এসেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করব। বিভিন্ন সময় জেনেভা ক্যাম্পে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেটি যেন ভবিষ্যতে না ঘটে সেজন্য ডিএমপি সদা তৎপর থাকবে। জেনেভা ক্যাম্পে মাদক কারবারি নির্মূল করা যাচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি ইবনে মিজান বলেন, আমরা (পুলিশ) মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, একেবারে নির্মূল করা সম্ভব না। বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে আমরা মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের নিয়ন্ত্রণে রাখি। আমরা এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আশা করি আমরা কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছে যাব। গ্রেপ্তারের পর আসামি বেরিয়ে এসে একই অপরাধে জড়ানোর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশ হচ্ছে ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি পার্ট।