বাড়িতে পুলিশ ঢুকতেই ডাকাত ডাকাত চিৎকার, অতঃপর

বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও ফসলি জমি নষ্টের মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার করতে যায় পুলিশের ১০ সদস্যের একটি দল। আসামিদের বাড়িতে ঢুকতেই ঘটে বিপত্তি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে মামলার কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তাদের বাড়িতে যায়। বাড়িতে ঢুকতেই বাড়ির লোকজন ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে ওঠেন। এ সময় তারা লাঠিসোঁটা, দেশীয়-অস্ত্র নিয়ে পুলিশকে মারধর করতে উদ্ধত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘটনাস্থল থেকে থানায় ফিরে আসেন পুলিশ সদস্যরা। এরপর আসামি পক্ষরা তাদের নিজেদের বাড়িঘর নিজেরাই ভাঙচুর করে ডাকাতি ও লুটপাটের অভিযোগ তোলেন পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামে।

জানা গেছে, ভাঙচুর, লুটপাট ও ফসলি জমি নষ্টের ঘটনায় মোয়াজ্জেম হোসেন খান নামে এক ভুক্তভোগী ২১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে প্রাথমিক তদন্ত শেষে গত রবিবার রাতে মামলা রেকর্ড করে  পুলিশ। যার মামলা নম্বর ১১। রাতেই ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে মামলার প্রধান আসামি সুলতান উদ্দিন খান (৫৫) ও  সুমন মিয়া (৪২),কামাল মিয়া (৩৬), মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের ১০ সদস্যের একটি দল অভিযানে যায়। এতে আসামিদের গ্রেপ্তারে বাধা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় বিবাদীরা।

এ প্রসঙ্গে আসামি পক্ষের মাহমুদুল হাসান খান বিপিন (৩৭) অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের ভাতিজা মোয়াজ্জেম হোসেন খান জিয়েমের সঙ্গে আমাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে কিছুদিন আগে ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল খান সেলিম মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলেন- চেয়ারম্যানি নিয়ে আর চিন্তা করি না, এখন থেকে চেয়ারম্যানি ছেড়ে দিলাম। এইবার কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আমার কোনো দায় নেই। এরপর থেকেই আমরা আতঙ্কে দিনরাত কাটাচ্ছি। রাতে সবাই সজাগ থাকি, কখন যেন চেয়ারম্যানের লোকজন আমাদের ওপর আক্রমণ চালায় এই শঙ্কায়।

এ বিষয়ে মামলার বাদী মোয়াজ্জেম হোসেন খান বলেন, আমার বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও ফসলি জমি নষ্টের ঘটনায় থানায় একটি মামলা করি। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে আসলে বাড়িতে ঢুকতেই প্রতিপক্ষরা এই নাটক সাজায় এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে পুলিশের ওপর হামলা করতে প্রস্তুত হয়। এতে পুলিশ চলে যায়। পরে প্রতিপক্ষরা ক্ষিপ্ত হয়ে আবার আমাদের বাড়িঘরে হামলা করে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

এ নিয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হাসান খান সেলিম বলেন, পুলিশের আইনি কাজে বাধা প্রদান কোনোভাবেই কাম্য নয়। আর আমার ওপর আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, আসিমরা গ্রেপ্তার এড়াতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে। বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।