প্রিজন সেলে ১২ দিনের কন্যাসন্তানসহ গ্রেপ্তার মা

খুলনায় শিশু চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার গৃহবধূ শাহাজাদী কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত রবিবার রাতে শাহজাদী ও তার ১২ দিনের মেয়েকে সুচিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে পাঠানো হয়েছে। সেখানে পৃথক কেবিনে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে গতকাল সোমবার খুলনা অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে শাহজাদী এবং তার মা নার্গিস বেগমের জামিন আবেদন করা হয়। বিচারক মো. আনিসুর রহমান শুনানি শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন।

জানা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর নগরীর রূপসা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বাগেরহাটের রামপালের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী শাহাজাদীর কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে মেয়ে শিশু। তাদের ঘরে আগে চার মেয়ে শিশু আছে। এবার অন্তত ছেলে হবে এমন প্রত্যাশা ছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। ছেলে না হওয়ায় স্ত্রীকে হাসপাতালেই ফেলে চলে যান সিরাজুল। এরপর আর খবর নেননি। মেয়ে শিশুর জন্ম দেওয়ার নানামুখী চাপে দিশাহারা শাহজাদী ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে একই হাসপাতালে জন্ম নেওয়া আরেক রোগীর ছেলে সন্তান চুরি করেন। নবজাতক চুরির সংবাদে তোলপাড় তৈরি হয়। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ ও পুলিশের তৎপরতা ওইদিন সন্ধ্যায় ছেলে নবজাতকটি উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় শাহজাদীর মা নার্গিস বেগমকে। এ ঘটনার দিন রাতে শাহজাদী ও তার মাকে আসামি করে মানবপাচার আইনে মামলা করেন চুরি যাওয়া শিশুর বাবা মির্জা সুমন। মামলার পর নার্গিস বেগম কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

অন্যদিকে, পুলিশের পাহারায় অসুস্থ শাহাজাদী ছিলেন হাসপাতালে। গত রবিবার তাকে আদালতে তোলা হলে কোনো আইনজীবীই তার পক্ষে জামিনের জন্য আদালতে দাঁড়ায়নি। সে কারণে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শাহজাদী ও তার শিশু মেয়েকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে গত রবিবার শাহজাদীর পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকলেও গতকাল সোমবার অনেক আইনজীবীকে জামিনের শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ রফিকুজ্জামান বলেন, আজ সকালের মধ্যে আদালতের আদেশের অনুলিপি তুলতে পারলে খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করা হবে। মূলত মামলায় মানবপাচারের মামলায় নিম্ন আদালতে জামিনের এখতিয়ার নেই।