পরিণত হচ্ছে খুচরা বাজারে

ঐতিহ্য হারাচ্ছে চাঁদপুর বড় স্টেশন পাইকারী ইলিশের বাজার

ব্রিটিশ আমল থেকে ইলিশের জন্য বিখ্যাত বড় স্টেশন মাছ ঘাট ক্রমশ হারাচ্ছে তার ঐতিহ্য। অর্ধশতাধিক আড়তে হাতে গোনা কয়েকটিতে মাছ এলেও অধিকাংশ আড়তেই কমেছে ইলিশ। খুচরা দোকানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে শতাধিক। ঐতিহ্যবাহী পাইকারি বাজারটি পরিণত হচ্ছে খুচরা বাজারে।

মৌসুম শেষের দিকে হলেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে গেছে ইলিশ। চড়া দামের কারণে ইলিশ কিনতে পারছেন কেবল সামর্থ্যবানরা। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য ইলিশ রয়ে গেছে অধরাই।

চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে প্রতিদিনই ভিড় করেন ক্রেতারা। তবে আকাশছোঁয়া দামের কারণে অনেকেই মাছ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। গেল বছর ভরা মৌসুমে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছিল ১৪শ’ টাকায়। চলতি মৌসুমে সেই মাছের দাম ২ হাজার টাকার নিচে নামেনি।

ঢাকা থেকে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা সুজন হোসেন বলেন, মাছ তাজা হলেও তুলনামূলক দাম অনেক বেশি। ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৩শ টাকা। তবুও কিছু ইলিশ কিনে নিলাম। সত্যি বলতে এই দামে সাধারণ মানুষের মাছ কেনা সম্ভব নয়।

আরেক ক্রেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, আর কিছু দিন পর মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। তবুও মাছের দাম কমেনি। তাহলে আমার সাধারণ মানুষ আর কবে ইলিশ কিনতে পারব? এখনো ইলিশের দাম ২৩০০-২৪০০ টাকা। অথচ গেল বছরও এই সময় ইলিশ ছিল ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা দরে।

ব্যবসায়ীরা জানান, মাছের সংকটে টিকতে না পেরে অনেক আড়ৎদারই ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন। লোকসানের মুখে পড়ছেন অনেকে। মাছ সংকটে নতুন নতুন খুচরা বিক্রেতা বাড়ছে।

বর্তমানে এক কেজি ওজনের মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৩শ থেকে ২৪শ টাকা দরে। ৭শ থেকে ৮শ গ্রাম ওজনের মাছ ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা এবং ৪শ থেকে ৬শ গ্রাম ওজনের মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২শ থেকে ১৩শ টাকায়‌।

জেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল বারী জমাদার বলেন, ‘প্রতি বছর ইলিশের সরবরাহ কমছে, ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ছেন। কিন্তু কতদিন লোকসান দিয়ে আড়ৎ চালাবে ব্যবসায়ীরা। কয়েক বছর আগেও এই পাইকারি বাজারে হাতেগোনা দুই একটি খুচরা দোকান ছিল। কিন্তু এখন তা বেড়ে শতাধিক হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ঐতিহ্যবাহী বড় স্টেশন বাজারটি বিলুপ্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।’