অপেক্ষার পালা শেষ করে ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার স্পর্শ করলেন বলিউডের দুই জাঁদরেল তারকা শাহরুখ খান ও রানী মুখার্জি। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় ভারতের নয়াদিল্লিতে বসে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ৭১তম আসর। আর সেখানেই লেখা হলো নতুন ইতিহাস। এই ইতিহাসের সাক্ষী হতে শুটিং ফেলে পোল্যান্ড থেকে ভারতে ছুটে আসেন বলিউড বাদশা। কালো স্যুট-সাদা শার্টে, সল্ট-অ্যান্ড-পেপার লুকে অনুষ্ঠানে হাজির হন শাহরুখ। কাঁচাপাকা চুলের শাহরুখের এই লুক দেখামাত্র হইচই সমাজমাধ্যমে। আর হবে না-ই বা কেন? আসন্ন ছবি ‘কিং’-এর লুকেই এদিন হাজির হয়েছেন যে শাহরুখ। অভিনেতার পাশেই বসে ছিলেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু তথা অভিনেত্রী রানী মুখার্জি। দর্শক আবেগে ভাসলেন যখন অভিনেতার আসনের সামনে বড় বড় হরফে লেখা ছিল, ‘শ্রী শাহরুখ খান’।
ক্যারিয়ারের সাড়ে তিন দশক পর শাহরুখ পেলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০২৩ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জাওয়ান’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার ঘরে তুললেন তিনি। ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে জাতীয় পুরস্কার গ্রহণ করেন বলিউড কিং। যার হাতে পুরস্কার গ্রহণ করতে মুখিয়ে ছিলেন এই সুপারস্টার। অনুষ্ঠানে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শাহরুখ খান বলেন, ‘জাতীয় পুরস্কার পাওয়া আমার জীবনের এক অবিস্মরণীয় সম্মান। আজীবন এই মুহূর্ত মনে রাখব।’
অপরদিকে রানী মুখার্জিও দীর্ঘ ক্যারিয়ারের তিন দশকের মাথায় প্রথম স্পর্শ পেলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের। ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর সম্মান জিতলেন তিনি। ঘোষণার পর থেকেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছিল ইন্ডাস্ট্রিতে, আর এবার হাতে পুরস্কার পেয়ে সম্পূর্ণ হলো রানীর অপেক্ষা।
শাহরুখ নিজের ইনস্টাগ্রামে রানীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, ‘জাতীয় পুরস্কার...আমাদের দুজনের অপূর্ণ ইচ্ছে অবশেষে পূরণ হলো। অভিনন্দন রানী, তুমি সত্যিই রানী। ভালোবাসা রইল অফুরান।’ শাহরুখের ভক্তরা বলছেন, এই সম্মান শুধু ‘আজাদ’ বা ‘বিক্রম’-এর জন্য নয়, বরং শাহরুখের অভিনয় জীবনের প্রতিটি চরিত্র। বিজয় অগ্নিহোত্রী, অমন মাথুর, মোহন ভাগব, দেবদাস, বীর, কবীর, রিজওয়ান কিংবা গৌরবের জন্যও সমান প্রযোজ্য। একসঙ্গে শাহরুখ-রানীর জাতীয় পুরস্কার জয় নিঃসন্দেহে বলিউডের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন।
এই পুরস্কার শাহরুখ খানের মুকুটে এক নতুন পালক। এর আগে তিনি পদ্মশ্রী, ফ্রান্সের ‘অর্দ্র দে আর্ত এ দে লেত্র’ এবং ‘লেজিওঁ দ’নর’সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তবে ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার হাতে উঠলেও শাহরুখ খান পেলেন না নগদের সম্পূর্ণ টাকা। নগদ অর্থ ভাগ করে নিতে হচ্ছে তাকে। কারণ শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার বিভাগে ২০২৩ সালে বিজেতা দুই অভিনেতা। বিক্রান্ত ম্যাসি; যিনি ‘টুয়েলভথ ফেল’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয় করেছেন তিনিও শাহরুখের সঙ্গে একই পুরস্কার পেলেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের নিয়ম অনুযায়ী, যৌথ বিজয়ের ক্ষেত্রে দুজনই আলাদা আলাদা মেডেল ও সনদ পেলেও, ২ লাখ টাকার নগদ পুরস্কারটি সমানভাবে ভাগ করে নেওয়া হয়। ফলে শাহরুখ ও বিক্রান্ত প্রত্যেকে পাবেন ১ লাখ টাকা করে।
এবারের আসরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বেস্ট ফিল্ম ক্রিটিক বিভাগে স্বর্ণকমলের পুরস্কার হাতে তুলে দেন অসমের লেখক উৎপল দত্তার হাতে। ‘সানফ্লাওয়ার্স ওয়্যার দ্য ফার্স্ট ওয়ান্স টু নো’ (কন্নড়) সিনেমার জন্য সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার হাতে তুলে দেওয়া হয় চিত্রনাট্যকার চিদানন্দ এ নায়েকের হাতে। ‘দ্য ফার্স্ট ফিল্ম’ (হিন্দি) সিনেমায় বেস্ট মিউজিক ডিরেকশন বিভাগে রজত কমল পুরস্কারে সম্মানিত হলেন প্রণীল দেশাই।
অনুষ্ঠানে ‘জাওয়ান’ সিনেমায় ‘ছলেয়া’ গানের জন্য প্লে-ব্যাক ফিমেল সিঙ্গার হিসেবে পুরস্কার পেলেন শিল্পা রাও। সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে উল্লোজুক্কু (মালয়ালম) সিনেমার জন্য জাতীয় পুরস্কার পেলেন উর্বশী। বেস্ট হিন্দি ফিল্ম ‘কাঁঠাল : আ জ্যাকফ্রুট মিস্ট্রি’র পুরস্কার নেন পরিচালক যশবর্ধন মিশ্রা। সেরা বাংলা ছবি ‘ডিপ ফ্রিজ’-এর জন্য পরিচালক অর্জুন দত্তের হাতে জাতীয় পুরস্কার তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’ সিনেমার জন্য সেরা কোরিওগ্রাফার নির্বাচিত হয়েছেন বৈভবী মার্চেন্ট। ‘অ্যানিম্যাল’ সিনেমায় মিউজিক ডিরেক্টর (ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর)-এর জন্য জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হলেন হর্ষবর্ধন রামেশ্বর।