শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দেবীগঞ্জ উত্তপ্ত

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় (এন এন স্কুল) ও দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া, মারামারি ও সড়ক অবরোধ চলার পর সন্ধা ৭টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এতে উভয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। 

জানা যায়,  বিকেল ৪টার দিকে এন এন স্কুল মাঠে ৫২তম গ্রীষ্মকালীন আন্তঃ বিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় ট্রাইবেকারে টেকনিক্যাল স্কুলকে হারায়। খেলা শেষে ফেরার পথে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে টেকনিক্যাল স্কুল ভবনের জানালার কাঁচ ও নামফলক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে টেকনিক্যালের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দেবীগঞ্জ চৌরাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন টেকনিক্যাল স্কুলের ৯ জন এবং এন এন স্কুলের ৩ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় টেকনিক্যাল স্কুলের ২ জন ও এন এন স্কুলের ১ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বলেন, এন এন স্কুলের শিক্ষার্থীরা আমাদের মেয়ে শিক্ষার্থীদের পথ অবরোধ করে অশোভন আচরণ করে। তখন আমাদের দুই শিক্ষক বাধা দিলে তাদেরও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের রক্ষায় এগিয়ে আসে।

টেকনিক্যাল স্কুলের শিক্ষকরা আরো জানান, এন এন স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের অফিসকক্ষের জানালার কাঁচ ও নামফলক ভেঙে ফেলে।

নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, খেলায় হেরে গিয়ে কারিগরি স্কুলের শিক্ষার্থীরা আমাদের শিক্ষার্থীদের উসকানিমূলক কথা বলে অপমান করে এবং পরে তারাই আমাদের শিক্ষার্থীদের মারধর শুরু করে।  

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন ধর বলেন, রংপুরে ৩ জন শিক্ষার্থীকে রেফার্ড করা হয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ১২ জনই আশঙ্কামুক্ত। অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। 

দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং অবরোধ তুলে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি।