ঢাকা-চায়না ডে চলচ্চিত্র উৎসব: বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সেতুবন্ধন

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চীন-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে ঢাকা-চায়না ডে ২০২৫ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল শুরু হয়েছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশে অবস্থিত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব গল্প বলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং আন্তঃ সাংস্কৃতিক সহযোগিতার একটি অনন্য উদযাপন।

উদ্বোধনী দিনে দুটি বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন অডিটোরিয়ামে প্রদর্শিত হয় চীনের প্রশংসিত চলচ্চিত্র (দ্যা ট্রোথ ১), যেখানে দর্শকরা চীনের সমসাময়িক সমাজের প্রতিফলন তুলে ধরা শক্তিশালী কাহিনীতে মুগ্ধ হন। চলচ্চিত্রটির পরিচালক মি. ঝোউ ওয়েনউবেই ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে চলচ্চিত্রটির অনুপ্রেরণা এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। 

দুপুরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের দিকে আলোকপাত করা হয়। বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রদর্শিত উৎসব, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। এতে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান পরিচালক তানিম নূর এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান, সৈয়দা তুহিন আরা করিম (অপি করিম) ও অভিনেতা জাহিদ হাসান। তারা দর্শকদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মতবিনিময় করেন। 

জাহিদ হাসান বলেন, আমি সবার জীবনকে সরলভাবে দেখার আহ্বান জানাই। সরলতা মানুষকে অনেক দূর নিয়ে যায়। উৎসব দলের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। অপি করিম যোগ করেন, চলচ্চিত্রটিতে একটি উষ্ণ পারিবারিক আবহ আছে। আমি আন্তরিকভাবে আপনাদের পরিবার নিয়ে এটি দেখার আমন্ত্রণ জানাই। সবাই মিলে উপভোগ করুন।  

পরিচালক তানিম নূর ব্যাখ্যা করেন, চলচ্চিত্রটি পশ্চিমা ক্লাসিক এ ক্রিসমাস ক্যারল দ্বারা অনুপ্রাণিত হলেও, এটি বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঈদের প্রেক্ষাপটে যত্নসহকারে রূপান্তরিত করা হয়েছে।

প্রদর্শনীর পর ‘উৎসব’ টিম দর্শকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেয়। শিক্ষার্থী ও অন্যান্য উপস্থিতরা চলচ্চিত্রটির বিষয়বস্তু, নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং সাংস্কৃতিক বার্তা নিয়ে মতামত বিনিময় করেন এবং প্রশ্ন করেন। আলোচনায় উঠে আসে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বিবর্তন, উৎসব-এর নির্মাণকৌশল এবং জাতীয় পরিচয়কে শক্তিশালী করতে সাংস্কৃতিক গল্প বলার গুরুত্ব।

উৎসবে ঢাকা শহরের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চলচ্চিত্রপ্রেমী, এবং সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের সদস্যরা অংশ নেন। এটি দুই দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের মধ্যে সংলাপের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে, যা ভবিষ্যতে সিনেমা, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে যৌথ উদ্যোগকে উৎসাহিত করবে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সম্মানিত উপাচার্য ‘উৎসব’ চলচ্চিত্রের কলাকুশলীদের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক বিনিময় হিসেবে প্রশংসা করেন।  

তিনি বলেন, প্রদর্শনীটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার এক উদযাপন, যার অংশ হিসেবে ঢাকা-চায়না ডে ফিল্ম ফে স্টিভ্যাল আয়োজিত হচ্ছে।

ঢাকা-চায়না ডে ২০২৫ উদযাপনের অংশ হিসেবে এই চলচ্চিত্র উৎসব চলবে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এতে আরও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার আয়োজন থাকবে, যা বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহ্যবাহী এবং আধুনিক উভয় ধরনের চলচ্চিত্র দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করবে। 

এই অনুষ্ঠানটি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কনফুসিয়াস ইন্সটিটিউট, সিএসসিএসএস, এসআইপিজি এবং বাংলাদেশে অবস্থিত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে, যা আন্তঃ সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্বের প্রতিফলন। উপাচার্য সকলকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এই সহযোগিতা উপভোগ করতে উষ্ণভাবে স্বাগত জানান এবং এই অনন্য উৎসবের আয়োজনে যোগ দেওয়ার জন্য সকলকে উৎসাহিত করেন।