আগুনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বে ছেলেকে গাড়ির চাবি এনে দিতে বলেছিলেন বাবা। বাবার কথা শুনে প্যান্টের পকেট থেকে চাবির সাথে থাকা দশ টাকা নোটটি নিয়ে এসেছিলেন ফায়ার ফাইটার শামীমের মাদরাসা পড়ুয়া সন্তান নাবিল। সেই ১০ টাকা সন্তানকে দিয়ে আগুন নিভাতে গিয়ে আর ফেরা হলো হয়নি ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদের। বাবার রেখে যাওয়া শেষ স্মৃতিটুকু এভাবেই তুলে ধরেন নাবিল। আকস্মিক এই ঘটনায় বাকরুদ্ধ নাবিকসহ তার পুরো পরিবার।
আজ বুধবার দুপুরে ফায়ার ফাইটারের শামীমের নিজ গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়ার মাসকা ইউনিয়নের রায়পুর-পিজাহাতি গ্রামে শহীদ শামিম আহমেদকে গার্ড অব অনার প্রদান শেষে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয় তাকে। এদিকে গার্ড অব অনার ও জানাযায় উপজেলার বিভিন্ন মহলের সরকারি বেসরকারি সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। স্বজন হারানোর ব্যথা পুরো পরিবারকে শোকের সাগরে ভাসিয়েছে। চোখের জল অনেকটা শুকিয়ে আসলো চাপা কান্না এখনো সবার মাঝে।
এই যেমন আদরের ছোট সন্তানকে হারিয়ে কান্নার যেনো থামছে না মা রাজবানুর। ছয় সন্তানের মধ্যে একমাত্র শামীম আহমেদকেই পড়াশোনা করেছিলেন তিনি যিনি সরকারি চাকরি করে ধরেছিলেন সংসারের হাল। তবে এই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হলো না। এর আগেই একে একে দুই সন্তানকে হারানোর বোঝা এখন মায়ের কাঁধে।
শোকাহত পরিবারের খোঁজ-খবর নিতে সকাল থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শামীমের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন। জানাযায় নামাজ অংশ নিয়ে পরিবারটির পাশে সব সময় থাকারও আশ্বাস দিয়েছেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হেলালি জানান, ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ নেত্রকোনা জেলার একটি গর্বের নাম। তিনি তার জীবন বাজি রেখে প্রমাণ করে গেছেন দেশের প্রতি ভালোবাসার। আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে তার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। এবং সব সময় তার পরিবারের পাশে আমি এবং আমাদের দল থাকবে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, আমরা ময়মনসিংহ এবং নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আমাদের সাহসী সহকর্মী শামীম আহমেদকে শেষ বিদায় দিতে এসেছি। আগুন নিভাতে গিয়ে তিনি যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে বীরত্বের শামিল।
তিনি রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করেছেন এবং অন্য সহকর্মীদের মৃত্যুর হাত থেকেও বাঁচিয়েছেন। নিজের মৃত্যু দিয়ে অনেকের জীবন রক্ষা করেছেন। আমরা তার প্রতি চির কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি তার পরিবারের সকল প্রয়োজনে আমরা সব সময় পাশে থাকব।
আর কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমদাদুল হক তালুকদার জানান, কেন্দুয়ার শামীম আহমেদ নিজের জীবন বাজি রেখে অনেকগুলো জীবন বাঁচিয়েছেন। তার এই আত্মদান কখনোই আমরা ভুলব না। তার পরিবারে সৃষ্টির সন্তান রয়েছে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক খোঁজ খবর রাখছি এবং যেকোনও প্রয়োজনে সব সময় তাদের পাশে আমরা থাকব।
এর আগে গত সোমবার গাজীপুরের টঙ্গীতে রাসায়নিকের গুদামে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মী শামীম আহমেদ অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মারা যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরে গতকাল প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।