হামজাদের ম্যাচের টিকিট অনলাইনে মিলবে ৪০০ টাকায়, সার্ভার ক্র্যাশে জরিমানা ১০ লাখ 

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচের টিকিট নিয়ে কম নাটক হয়নি। শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করতে গিয়ে ভালোই বিপাকে পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে। পাশাপাশি অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় ফুটবল সংস্লিষ্ঠ অনেকেই টিকিট কিনতে পারেননি অনলাইনে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায়। এ নিয়ে কম সমালোচনা সইতে হয়নি বাফুফেকে। এরপরও তারা অনলাইনেই টিকিট বিক্রি পূর্বের সিদ্ধান্তে অটল থাকছে। ৯ অক্টোবর এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হংকংকে আতিথ্য দেবে বাংলাদেশ। জাতীয় স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া সেই ম্যাচের টিকিট অনলাইনে বিক্রি শুরু হবে সোমবার থেকে। বুধবার বাফুফের কম্পিটিশনস কমিটির কর্তারা দিয়েছেন এই তথ্য।

আগের ম্যাচের টিকিট বিক্রির স্বত্ত্ব পেয়েছিল টিকিফাই নামে একটি অনামী প্রতিষ্ঠান। বেশ কয়েকবার সার্ভার ডাউন হওয়ায় টিকিট প্রার্থী অনেকেই কিনতে পারেননি টিকিট। বেশিরভাগ সময় সার্ভার ডাউন থাকার পরও অবশ্য নির্দিষ্ট টিকিট একটা সময় শতভাগ সোল্ড আউট হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার নতুন আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব। কুইকেট নামের ওয়েবসাইটে সোমবার থেকে বিক্রি হবে টিকিট। বুধবার কম্পিটিশনস কমিটির সদস্য তাজওয়ার আউয়াল বলেন, ‘হংকং ম্যাচের টিকিট বিক্রির জন্য সাতটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। এর মধ্যে সর্বনিম্ন দর ও মানের বিবেচনায় কুইকেটকে বিক্রির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা এক সঙ্গে এক লাখ লগ ইন লোড নিতে পারবে।' টিকিট নির্বিঘ্নে বিক্রি নিশ্চিত করতে না পারলে সেই প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে জানান বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের ভাই তাজওয়ার, 'টিকিটিং কার্যক্রম কোনো কারণে বিঘ্নিত হলে তারা বাফুফেকে জরিমানা হিসেবে ১০ লাখ টাকা দেবে। এমন শর্তেই তারা কাজ করতে রাজি হয়েছে। বাফুফে ফেসবুক পেজে নির্ধারিত সময়ের আগে টিকিট সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হবে।’৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস। হামজা চৌধুরীদের ম্যাচে বেশি দর্শকের আশায় বাফুফে ম্যাচ শুরু করবে রাত ৮টায়। সিঙ্গাপুর ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ পাঁচটি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবে। গ্যালারি টিকিটের মূল্য আগের মতোই ৪০০ টাকা। 

সিঙ্গাপুর ম্যাচের টিকিট প্রত্যাশিত পরিমান পায়নি ফুটবল সংস্লিষ্ঠ অনেকেই। বিশেষ করে ক্লাবগুলোকে দেওয়া হয়নি টিকিট ক্রয়ের বিশেষ সুযোগ। তাদেরকে মাত্র দুটি করে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া জেলার কাউন্সিলদেরও টিকিট কেনার বিশেষ সুযোগ দেয়নি বাফুফে। তাছাড়া টিকিট নিয়ে নানা নয়-ছয়ের অভিযোগও উঠেছে। অনেকের অভিযোগ সত্যিকারের দর্শকদের বঞ্চিত করে বাফুফে মৌসুমি দর্শকদের খেলা দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। আসন্ন হংকং ম্যাচে যাতে এরকম অভিযোগ না ওঠে তাই নির্বাহী কমিটির কাছে স্টেক হোল্ডারদের জন্য কতগুলো টিকিট সংরক্ষিত করা হবে তার দিক নির্দেশনা চাইবে কম্পিটিশনস কমিটি। একই সঙ্গে বিতর্ক এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার কথাও বলছেন কর্তারা।