কৃষকদের সম্মেলনেও মেসির কথা বললেন 'আইডল' পাবলো আইমার

পাবলো আইমার ১৯৯৯ থেকে ১০ বছর খেলেছেন আর্জেন্টিনার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে। বিশ্বকাপ বিজয়ী আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফের সদস্য। লিওনেল মেসি তাকে আইডল মেনেই বড় হয়েছেন। সেই পাবলো আইমার বুয়েন্স আয়ার্সে আয়োজিত কৃষি উদ্যোক্তাদের এক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় মেসিকে আনলেন সাফল্যের সেরা উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করিয়ে।

বক্তৃতায় আইমার মেসির অধ্যবসায় ও নির্ভরযোগ্যতার দিক তুলে ধরেন। বলেন, “মেসি কখনও পরিকল্পনায় আপনাকে হতাশ করেননি। আমি উদাহরণ দিই, বার্সেলোনা শনিবার বিকেল ৪টায় খেলছে—সে কখনও ব্যর্থ হয়নি। সিনেমায় গেলে সিনেমা হয়তো ভালো নাও লাগতে পারে। কিন্তু মেসি আপনাকে কখনও ব্যর্থ করেনি। ফেদেরার বা জর্ডানও না। আমার মনে হয় এটাই কারও জন্য সবচেয়ে বড় প্রশংসা: কখনও কখনও আমার মনে হয় ওরা খেলে যেন কেউ এখনো দেখেনি, আর সেই দর্শকের জন্যও সর্বোচ্চটা দেয়।”

কৃষকদের সম্মেলনে বক্তৃতা করছেন আইমার। ছবি: লা নাসিয়ন

এ ছাড়া আইমার প্রস্তুতি ও সতীর্থদের প্রতি বিশ্বাসের গুরুত্বও তুলে ধরেন, যা এলিট ফুটবল থেকে শুরু করে কৃষি ব্যবসার পরিচালনায় সমান কার্যকর। জাতীয় দলের ট্যাকটিক্যাল অনুশীলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “১১ বনাম ০” অনুশীলনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রত্যেক খেলোয়াড় যেন বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সতীর্থদের অবস্থান সম্পর্কে অবচেতনভাবে জানে। তিনি ব্যাখ্যা করেন— “উদ্দেশ্য হলো বল কার কাছে আছে তার ওপর নির্ভর করে বাকিদের কোথায় থাকা উচিত তা জানা। ম্যাচ চলাকালে এই জিনিসগুলো মনে রাখা খুবই কষ্টকর। তাই আগে থেকে অনুশীলন করলে খেলার সময় আলো নিভে গেলেও বল অন্যদিকে পাঠালে অবচেতনে জানবেন সতীর্থ কোথায় আছে।”

আইমার ছিলেন মেসির আইডল

রিভার প্লেট থেকে ক্যারিয়ার শুরু করা সাবেক এই ফুটবলার আরও জানান, বিশ্বকাপজয়ী দল মেসি ও তাঁর সতীর্থরা বল ছাড়াই এসব অনুশীলন করেন, প্রতিরক্ষামূলক পরিস্থিতি ধরে অনুশীলন করে যাতে পরস্পরের প্রতি বোঝাপড়া বাড়ে। সংকটকালে দলের ভেতরে পরিবেশ কেমন থাকা উচিত—প্রশ্নের জবাবে আইমার বলেন, “ভালো পরিবেশ থাকা অপরিহার্য নয়, আবার সেটি সাফল্যের নিশ্চয়তাও দেয় না। তবে ইতিবাচক আবহ কাজের প্রক্রিয়ায় সহায়ক হয়। ভাগ্য আর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুত্বও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। ভাগ্যকে আমি কখনও খাটো করি না, কারণ কঠোর পরিশ্রম বা ইতিবাচক শক্তি দিয়ে অনেক সময় সেটি ডেকে আনা যায়। তবে অনেক সিদ্ধান্ত সেকেন্ডের ভেতরে নিতে হয়, আর সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত ছিল শুরুতেই আমার সেই ‘হ্যাঁ’।”

সেই “হ্যাঁ” বলতে তিনি বোঝাচ্ছিলেন—আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) প্রস্তাব গ্রহণ করে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে যোগ দেওয়া। আইমার এটিকে বড় ধরনের বাজি হিসেবে বর্ণনা করেন— “এত বড় খেলোয়াড়দের দায়িত্ব নেওয়া ছিল বিশাল এক চ্যালেঞ্জ। আমরা যাদের আজ জাতীয় দলে দেখি, তাঁদের কোচিং করাতে রাজি হওয়া সত্যিই বড় ঝুঁকি ছিল।”

আলোচনার আরেক অংশে আইমার ব্যর্থতার সম্ভাবনা ও অতিরিক্ত চিন্তায় স্থবির হয়ে না যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বলেন—“আমরা জানি সব সময় সব কিছু ভালো নাও হতে পারে। এজন্যই কম ভেবে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কখনও কার্যকর হয়। বেশি ভেবে ফেললে হয়তো আপনি আর সোফা থেকে উঠতেই পারবেন না।”—এই অংশে তিনি দর্শকদের সবচেয়ে জোরালো করতালি পান। পরে তিনি যোগ করেন—“শরীর ভালো থাকলে বাকিটা সহজেই ঠিক হয়ে যায়।”