বাংলাদেশে কৃষি ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরে ডাচ সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা স্থাপন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আগে ভুল তথ্যের বিস্তার রোধে নেদারল্যান্ডসের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। 

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে সংস্থাটির সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কুফের সঙ্গে এক বৈঠকে এই সহায়তা চান তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ ফল ও সবজি উৎপাদনে একটি প্রধান দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিন্তু ফসল তোলার মৌসুমে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে যায়, ফলে লাখ লাখ ক্ষুদ্র কৃষক ক্ষতির শিকার হন। গ্রামীণ এলাকায় স্বল্পমেয়াদী কোল্ড স্টোরেজের অভাবে তারা ফসল সংরক্ষণ করতে পারেন না।

তিনি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস কৃষিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। আমাদের পণ্য সংরক্ষণে ডাচ প্রযুক্তির প্রয়োজন। আপনারা আমাদের কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার জন্য গবেষক ও বিজ্ঞানী পাঠাতে পারেন।’

প্রতি বছর বাংলাদেশে সংরক্ষণের অভাবে শত শত টন ফল ও সবজি নষ্ট হয়। এতে কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হন বলে উল্লেখ করেন তিনি। অধ্যাপক ইউনূস জানান, আম, কাঁঠাল ও পেয়ারার মতো বাংলাদেশি ফল নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে, কিন্তু রপ্তানি বাড়াতে উন্নত সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রয়োজন।

প্রধান উপদেষ্টা পানি ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং সামুদ্রিক প্রযুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বাংলাদেশের নদীগুলো সচল রাখা এবং সমুদ্র গবেষণায় ডাচ সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্কুফ উত্থাপিত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন এবং টেক্সটাইল খাতেও সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, ভুল তথ্যের ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচনের আগে ভুল তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এই ভুল তথ্যের অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আমাদের আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে কোনো প্রকৃত নির্বাচন হয়নি, শুধু ভুয়া ভোট হয়েছে। এখন সাবেক স্বৈরশাসকদের সহযোগীরা নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশবিরোধী ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য অর্থায়ন করছে।’

প্রধান উপদেষ্টা আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আগে বৈশ্বিক সম্পর্ক স্থাপনে সহায়তা করার জন্য ছয়জন রাজনৈতিক নেতা তার সঙ্গে নিউইয়র্কে এসেছেন।

তিনি বলেন, ‘লাখ লাখ তরুণ বাংলাদেশি ভোট দেওয়ার জন্য আগ্রহী। তাদের মধ্যে অনেকেই আগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি।’

প্রধানমন্ত্রী স্কুফ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এবং ভুল তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।’

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুফতে সিদ্দিকী, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন।