ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের আলোচিত পরিবেশকর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনাম ওয়াংচুককে শুক্রবার গ্রেফতারের পর এলাকাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (এনএসএ) মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ওয়াংচুকের বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে, কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন।
সোনাম ওয়াংচুক গ্রেফতারে স্থানীয় পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোনম ওয়াংচুককে সিনেপ্রেমীরা চেনে বাস্তবের ফুনশুক ওয়াংডু হিসেবে। মনে করা হয়, বলিউডের ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবিতে আমির খানের চরিত্র আসলে তাঁরই গল্প। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে অভিনব উদ্যোগের জন্য ২০১৮ সালে তিনি পেয়েছিলেন র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই লেহ শহরসহ লাদাখের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরাও টহল দেয় এবং প্রয়োজনীয় স্থানে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের আদলে ‘জেন-জিরা’ নামে একটি আন্দোলন লাদাখে সক্রিয় হয়েছে, যারা লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দাবি করছে। গত বুধবার এই আন্দোলন সংক্রান্ত এক ঘটনায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং তাতে চারজন নিহত ও অন্তত ৫০ জন আহত হয়।
এ ঘটনার পরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোনাম ওয়াংচুককে দায়ী করছে। তাদের দাবি, ওয়াংচুকের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণেই আন্দোলনকারীরা সহিংস হয়ে ওঠে।
২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন অনেকেই তা স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে লাদাখবাসীর রাজ্যত্বের দাবি জোরালো হয়েছে। ওয়াংচুক শুধু রাজ্যত্বই নয়, লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় এনে স্বশাসনের দাবিও তুলেছেন।