পুরাতন খোয়াই নদী পুনরুদ্ধার-সংরক্ষণের দাবি বিশেষজ্ঞদের

বিশ্ব নদী দিবসে হবিগঞ্জের খোয়াই নদী পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বক্তারা বলেন, শহরের অন্যতম বারিপাত অঞ্চল পুরাতন খোয়াই নদী দখল-ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা ও কৃত্রিম বন্যা। এই শহরের জন্য পুরাতন খোয়াই নদী পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। নদীটি সংরক্ষণ করে বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে নদীর সুস্থ স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি পরিবেশবাদী সংগঠন সহ নাগরিক সমাজ দুই দশক ধরে করে আসছে। দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বারবার আশ্বাস দিলেও পুরাতন খোয়াই দখলমুক্ত করার কার্যকর কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে ‘আমাদের স্বপ্নের নদী, সবাই মিলে রক্ষা করি’ শীর্ষক কর্মসূচিতে খোয়াই নদী নিয়ে এসব শঙ্কা ব্যক্ত করেন।

তারা বলেন, এক সময়ের প্রবাহমান খোয়াই সেই নদীর অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে। এখন পুরাতন খোয়াই নদী নামে পরিচিত। পাল তোলা নৌকা দিয়ে যাতায়াত, নৌকায় বসে খাওয়া সেসব কেবলই স্মৃতি। ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মালামাল নিয়ে হবিগঞ্জ শহরে খোয়াই নদীতে বড় বড় নৌকা আসতো। মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন নদী নির্ভরশীল ছিল। সেই চিত্র বদলে এখন শিল্পীদের ছবি আঁকতে হচ্ছে নদীর  পাড়ে গড়ে উঠা কলকারখানার কালো ধোঁয়া আর বিষাক্ত পানির।

বক্তরা বলেন, নদীতে এখন পানি, পাল তোলা নৌকা, মাছ কোনোটাই নেই। দখল ও দূষণের কারণে নদীর অবস্থা খুব করুণ।  এখন কাপড় ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে স্বপ্নের নদী তৈরি করছে শিক্ষার্থীরা। সেই নদী তীরে বসে বয়োজ্যেষ্ঠরা নদীর গল্প শোনাচ্ছেন, কেউ ছবি আঁকছে, কেউ নদীতে মাছ ধরছেন, নৌকা ভাসাচ্ছে, কেউ সাঁতার কাটছে।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমি ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার এই বৈচিত্রময় কর্মসূচিতে নদী নিয়ে কথা বলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদ, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রবীণ আইনজীবী মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, সরকারি মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গবেষক জাহান আরা খাতুন, ধরা হবিগঞ্জের সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনি, হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমির অধ্যক্ষ আশিষ আচার্য্য,  নুরজাহান বিভা প্রমুখ।