লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় এবং জীবিকা ও জমি হারানোর কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবারগুলো ক্রমশ অভিবাসনে বাধ্য হচ্ছে। ফলে পরিকল্পনা ও সুরক্ষা ছাড়া এই অভিবাসন তরুণ প্রজন্মকে অনিশ্চয়তা, শোষণ ও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
রবিবার খুলনা নগরীর আভা সেন্টারে অনুষ্ঠিত জলবায়ু অভিবাসন বিষয়ক আঞ্চলিক যুব সংলাপে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় অঞ্চল থেকে আসা প্রায় শতাধিক তরুণ অংশগ্রহণকারীরা এ কথা বলেন।
তারা জলবায়ুজনিত অভিবাসনের জরুরি বিষয় নিয়ে তাদের উদ্বেগ ও দাবি তুলে ধরেন। এছাড়া যুবরা এই কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণের আয়োজনে হেলভেটাস সুইচ ইন্টারকো অপারেশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে যুব প্রতিনিধিরা বলেন, তারা শুধু ভুক্তভোগী নয়; বরং টেকসই সমাধান গড়ে তোলার পরিবর্তনের অংশীদারও। এসময় তারা কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন, যার মধ্যে রয়েছে— নিরাপদ ও পরিকল্পিত অভিবাসনের জন্য মানবাধিকারভিত্তিক কৌশল গ্রহণ, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সহায়তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণ অভিবাসীদের শোষণ ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, দুর্যোগ ও অভিবাসনপীড়িত শিশু-যুবদের শিক্ষার অধিকার সংরক্ষণ, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুবদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, আঞ্চলিক যুব অভিবাসন ফোরাম গঠন এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের কাঠামোয় যুবদের দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা। যুবরা জলবায়ু অভিবাসন মোকাবিলায় যুব সমাজকে সমান অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাংলাদেশ সরকার, নীতিনির্ধারক, সিভিল সোসাইটি, একাডেমিয়া এবং উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতি দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উত্তরণের প্রজেক্ট অপারেশন ম্যানেজার আফরোজা আকতার বানু। অতিথি ছিলেন হেলভেটাসের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মিল্টন কুমার সাহা ও ডব্লিউএসসিডমেন খুলনা রিজিওন মিল্টন সরকার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সাধনচন্দ্র স্বর্ণকার, কারিতাসের ব্যবস্থাপক প্রভাস চন্দ্র বিশ্বাস ও উত্তরণের টেকনিক্যাল ম্যানেজার রেজওয়ান উল্লাহ। সঞ্চালনা করেন উত্তরণের অ্যাডভোকেসি, নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড মাইগ্রেশন অফিসার মো. ফয়সাল মণ্ডল।