সরকারি চাকরিতে থেকেও মহিলা দলের পদে পারভীন

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী পারভীন আক্তারের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ভঙ্গ করে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের খিলগাঁও থানার সভানেত্রী হয়েছেন তিনি। এর আগে পারভীন একই শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

মহিলা দল জানিয়েছে, দলের মধ্যে আলোচনা করে পারভীনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পারভীন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী

এর আগে গত ৯ আগস্ট পারভীন আক্তারকে সভানেত্রী ঘোষণা করা হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের সভাপতি রুমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ জুলাই খিলগাঁও থানার মহিলা দলের সভানেত্রী মাজেদা বেগম মিতা শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। তার অনুপস্থিতিতে মহিলা দল খিলগাঁও থানার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল রাখার লক্ষ্যে সকলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সভানেত্রীর শূন্য পদে থানার সিনিয়র সহ-সভাপতি পারভীন আক্তারকে সভানেত্রী হিসেবে পদায়ন করা হলো।

এ বিষয়ে পারভীন আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চাকরিতে আসার আগে থেকে আমি রাজনীতি করছি। আমার কাছে আমার দল সবচেয়ে বড়। বেছে নিতে বললে আমার দল বেছে নেব৷ চাকরি চলে যাবে কিনা সেটা নিয়ে ভাবছি না।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের সভাপতি রুমা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকারি চাকরির পাশাপাশি অনেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছে। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি বা অন্যান্য দলেও আছে। পারভীন অনেক আগে থেকেই চাকরি করেন, চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। তবে তার বিষয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হবে।’

কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ বলেন, ‘পারভীন আক্তারের বিষয়ে আমার জানা নেই। আমাদের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে সরকারি চাকরিতে যারা আছেন তারা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারে না।’

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পদবি অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘চাকরি নীতিমালা অনুসারে সরকারি চাকরিজীবীরা কখনোই রাজনীতিতে যোগ দিতে পারবেন না। কোনো দলীয় পদ নিতে পারবেন না। কেউ রাজনীতিতে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’