গাজীপুর সদর উপজেলার বানিয়ারচালা এলাকায় জায়ান্ট টেক্সটাইলস নামের একটি পোশাক তৈরির কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল রবিবার সকালে কারখানার সামনে বন্ধের একটি নোটিস টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সোহেল রানা জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩(১) ধারা মোতাবেক কারখানার সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। বিস্তারিত নোটিসে লেখা রয়েছে।
নোটিসে লেখা রয়েছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর কারখানার শ্রমিকরা হাজিরা নিশ্চিত করার পর কাজ না করে কারখানা অভ্যন্তরে ডাইং সেকশনের গেট এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউসের গেটসহ কারখানার মেইন প্রবেশ গেট বেআইনিভাবে বন্ধ করে দিয়ে কর্মপরিবেশ নষ্ট করে। তাদের কর্মকা-ের জন্য সোহেল রানা, অ্যাডমিন ম্যানেজার ও বেশ কয়েক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ আরও অনেকে গেট বন্ধ করে কাজ না করার কারণ জানতে চাইলে তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিকদের বিশৃঙ্খল আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আলোচনা করতে ব্যর্থ হয়। ফলে, কারখানার অভ্যন্তরের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দুপুরে প্রশাসন মেইন গেট খুলে কারখানা খালি করার নির্দেশ দেয়। এসব কার্যকলাপ বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ মোতাবেক অবৈধ ধর্মঘটের শামিল। কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং কারখানার সম্পত্তি ও জানমাল রক্ষার্থে গতকাল সকাল থেকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩(১) ধারা মোতাবেক কারখানার কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। পরে কারখানা খোলার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে নোটিসের মাধ্যমে জানানো হবে।
কারখানারা শ্রমিকরা জানায়, কারখানায় হাজিরা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক শ্রমিককে কারখানা থেকে বের করে দেয়। তুচ্ছ ঘটনায় একজন শ্রমিককে ছাঁটাই করায় অন্য শ্রমিকরা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে কারখানা কর্তৃপক্ষের লোকজন শ্রমিকের ওপর হামলা করে। এর প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল হয়।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম বলেন, মালিকপক্ষের লোকজন শ্রমিকদের মারধর করার পাশাপাশি নারী শ্রমিকদের লাঞ্ছিত করে। গতকাল সকালে শ্রমিকরা কারখানার সামনে এসে দেখে কারখানা বন্ধ। শ্রমিকরা কারখানা চালু করার দাবি জানান, পাশাপাশি যারা শ্রমিকদের মারধর ও লাঞ্ছিত করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি করেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল লতিফ বলেন, গত শনিবারের ক্রমিক অসন্তোষের জেরে কর্তৃপক্ষ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। কারখানার নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।