বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজন করা হয় ‘ইলিশ উৎসব’। বাংলাদেশি এই মাছটির প্রতি ভালোবাসাকে সম্মান জানাতেই এ আয়োজন।
উৎসবটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক প্রগ্রেসের সিনিয়র ফেলো কনস্ট্যান্টিনো জাভিয়ের এবং থাইল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সেলর ডুয়াংকামন কিয়াটবুমরুং।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ তার বক্তৃতায় বলেন, ইলিশ শুধু একটি মাছই নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই মাছ আমাদের ঐতিহ্য ও স্বাদের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তিনি উল্লেখ করেন, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদীতে ধরা পড়া ইলিশের স্বাদই সবচেয়ে অনন্য।
তিনি আরও বলেন, ইলিশ বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে এখন ইলিশ রপ্তানি করা হয়।
কনস্ট্যান্টিনো জাভিয়ের তার বক্তৃতায় ইলিশ মাছকে ‘বাঙালির চেতনার প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, খাবার, মাছ এবং উৎসব কূটনীতির একটি চমৎকার উদযাপন। ভারত-বাংলাদেশ সংযোগের সুস্বাদু উদাহরণ।
উৎসবে বাংলাদেশ হাইকমিশনের চ্যান্সারি কম্পাউন্ড রূপ নেয় বাঙালিয়ানার রঙে। দেয়ালে শোভা পাচ্ছিল শিল্পীদের তোলা ইলিশের দারুণ সব ফটোগ্রাফি।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল ইলিশ দিয়ে তৈরি নানা পদ। বাংলাদেশ হাইকমিশনের শেফরা ইলিশের প্রায় ৩০ রকমের পদ তৈরি করে সবাইকে চমক দেন। শুধু ভাপা, ভাজা বা সর্ষে ইলিশ নয়, ছিল ইলিশের কাবাব, পাকোড়া, স্যুপ এবং ইলিশের বিরিয়ানিও।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, ইলিশ বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে। এই আবেগকে সম্মান জানাতেই তাদের এই আয়োজন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ হল বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬ শতাংশের জোগানদার। এই বছর কম উৎপাদন সত্ত্বেও, বাংলাদেশ দুর্গাপূজার প্রাক্কালে ভারতের কাছে প্রায় ১,২০০ টন ইলিশ রপ্তানি করেছে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের এ-ও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, ‘দয়া করে শুধু মাছ নয়, জীবনকেও উদযাপন করুন’।