ইলেকট্রনিক আইডি কার্ড নিয়ে আবারও ভোট সুইজারল্যান্ডে

সুইজারল্যান্ডের জনগণ আবারও ইলেকট্রনিক আইডি কার্ড চালুর প্রশ্নে ভোট দিচ্ছে। এটি ইলেকট্রনিক পরিচয়পত্র নিয়ে দ্বিতীয় গণভোট। রবিবারের ভোটাভুটিতে প্রাথমিক ফলাফলে ভোটাররা সমান সমান (৫০-৫০) ভোট দিয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল পেতে দেরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে, ২০২১ সালের মার্চ মাসে প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে গণভোট হয়েছিল। তখন বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে ই-আইডি কার্ড চালুর প্রস্তাব ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করেছিল।

জনগণের প্রধান উদ্বেগ হলো তথ্যের নিরাপত্তা। তারা চান না যে ব্যক্তিগত তথ্য বেসরকারি কোম্পানির হাতে থাকুক। এই ভয় থেকেই আগের প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।

এবার সরকারি প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক আইডি কার্ড পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সরকার আশা করছে, এতে জনগণের আস্থা বাড়বে।

নতুন এই ই-আইডি কার্ডে ব্যবহারকারীর নাম, জন্ম তারিখ ও ছবিসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। অনলাইনে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা নেওয়ার সময় এটি ব্যবহার করা যাবে।

পরিবর্তিত প্রস্তাবনায় এবার ইলেকট্রনিক পরিচয়পত্র রাখা হবে ব্যবহারকারীর স্মার্টফোনে, কেন্দ্রীয় সার্ভারে নয়। এটি বাধ্যতামূলক না হওয়ায় নাগরিকরা প্রচলিত পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে পারবে। কর্তৃপক্ষ শুধু বয়স বা জাতীয়তার মতো প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য যাচাই করতে পারবে।

সুইস সরকার এই প্রস্তাবনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইতিমধ্যে সংসদের উভয় কক্ষেই এটি পাস হয়েছে।

প্রস্তাবনাটির সমর্থকরা বলছেন, এটি ফোনের চুক্তি সই করা থেকে শুরু করে মদ কিনতে সক্ষমতার প্রমাণ দেওয়ার মতো দৈনন্দিন কাজগুলো সহজ করবে।

বিরোধীদের মতে, এতে গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে। তাদের আশঙ্কা, ব্যক্তিগত তথ্য নজরদারি বা বিপণনের কাজে লাগাতে পারে।

গোপনীয়তা রক্ষায় সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ব্যাংকিং গোপনীয়তা আইন একসময় নাগরিকদের আর্থিক তথ্য রক্ষা করত। এখনো আদালতের নির্দেশে গুগল স্ট্রিট ভিউয়ের ছবি ঝাপসা করতে হয়।

যুক্তরাজ্য তাদের ডিজিটাল পরিচয়পত্রের পরিকল্পনা ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের এই ভোট অনুষ্ঠিত হলো। যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনায়ও একই ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের নিয়ম অনুসারে, কোনো আইন পাস করতে গণভোটের প্রয়োজন পড়ে। তাই ই-আইডি কার্ড চালু করতে এবারও ভোটারদের সম্মতি নিতে হচ্ছে।