শারজা ইতিহাস গড়ল নেপাল। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯০ রানে হারিয়ে তারা তুলে নিল টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়।
প্রথমে ব্যাট করে নেপাল তোলে ১৭৩/৬। আসিফ শেখ (৬৮*) ও সুনদীপ জোরা (৬৩) গড়েন সেঞ্চুরি জুটি, শেষের দিকে মোহাম্মদ আদিল আলমের ঝোড়ো ইনিংস দলকে শক্ত ভিতে দাঁড় করায়।
জবাবে নেপালের শৃঙ্খলিত বোলিং–ফিল্ডিংয়ে ক্যারিবীয়রা ভেঙে পড়ে। আদিল আলম নেন ৪/২৪, কুশল ভুর্তেল ৩/১৬। অভিজ্ঞ জেসন হোল্ডারের (২১) ছাড়া কেউই দাঁড়াতে পারেননি। ১৭.১ ওভারে অলআউট হয় মাত্র ৮৩ রানে।
এর আগে প্রথম ম্যাচ জিতেই নেপাল পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি–টোয়েন্টি জয় পায়। তবে এই সিরিজ জয় আরও বড় মাইলফলক, কারণ এটাই তাদের কোনো টেস্ট দলের বিপক্ষে প্রথম বহু ম্যাচের সিরিজ জয়।
নেপাল অধিনায়ক রোহিত পাওডেল বলেন:
“আমরা ভীষণ খুশি। টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে ম্যাচ জেতাই কঠিন, আর দুই দিনের ব্যবধানে সিরিজ জিতে ফেলাটা সত্যিই দারুণ লাগছে। আসিফ আর জোরা যেভাবে খেলেছে, বিশেষ করে জোরা যেভাবে চাপ সামলে ইনিংসটা এগিয়েছে, সেটা আসিফকে বড় ইনিংস খেলতে সাহায্য করেছে।
আজ আমাদের বোলিংও অনেক উন্নত ছিল। পাওয়ারপ্লেতে দীপিদা আর করণ দারুণ শুরু এনে দিয়েছে, এরপর আলম সেটাকে ধরে রেখেছে। ফিল্ডিং নিয়ে আমরা গর্বিত, গত ১০–১৫ বছর ধরে নেপাল সবসময় ভালো ফিল্ডিং করে আসছে। ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করেছে, বিশেষ করে দীপিদা আর গুলশানকে কৃতিত্ব দিতেই হবে।
এই সিরিজটা আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশ্ব ক্রিকেটকে দেখানোর জন্য যে নেপালও এই জায়গার অংশীদার। অনেক চোখ এখন আমাদের দিকে, আমরা চাই টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে আরও বেশি সিরিজ খেলতে। সিরিজটা ক্লিন সুইপ করাই এখন আমাদের লক্ষ্য। যদি নতুনভাবে শুরু করি, তবে সেই ধারা ধরে রেখে বাছাইপর্বে যাবো এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার চেষ্টা করবো।”