চাঁদাবাজি মামলায় সেই সমন্বয়ক রাব্বিসহ ৫ জন রিমান্ডে

ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সমন্বয়ক সেজে চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলায় সাইফুল ইসলাম রাব্বিসহ পাঁচ আসামিকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার একটি আদালত এ আদেশ দেন। সোমবার চাঁদাবাজির মামলায় রাব্বিসহ পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই নাজমুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকার মহানগর হাকিম আতিকুর রহমান তাদের কারাগারে পাঠিয়ে মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন-আবু সুফিয়ান, আব্দুর রহমান ওরফে মানিক, হাবিবুর রহমান ফরহাদ ও শাহিন হোসেন।

মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সমন্বয়ক সেজে চাঁদাবাজির অভিযোগে রবিবার রাতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করেন। ক্লিনিকের মালিক আফরুজা শিল্পী বাদী হয়ে সোমবার সকালে মোহাম্মদপুর থানায় এ মামলা করেন। পরে তাদের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

মামলার বর্ণনায় বলা হয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে শাহিন তার স্ত্রীকে ‘সেইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ নিয়ে আসেন। নবজাতকের অবস্থা খারাপ দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে শাহিন তার স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ব্যবস্থা চান। পরে তার স্ত্রী মৃত সন্তান প্রসব করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি শাহিনকে জানালে তিনি অর্থ দিতে চান। তবে মানবিক কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো অর্থ না নিয়েই ছাড়পত্র দেয়।

বাদীর অভিযোগ, ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে আসামিরা হাসপাতালে এসে বাচ্চা মারা যাওয়ার ঘটনায় মামলা না করার বিনিময়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে আসামিরা হাসপাতাল থেকে একজনকে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। তখন এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিলে তারা চলে যায় এবং বাকি টাকা দ্রুত দিতে বলে। এরপর থেকে তারা মোবাইলে ফোন করে বাকি টাকা দাবি ও হুমকি দিতে থাকে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসামিরা বাদীকে ফোন করে হাজারীবাগের পশ্চিম ধানমন্ডি ৫ নম্বর রোডে ডেকে নিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা নেয় এবং অবশিষ্ট টাকা দ্রুত না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আফরুজা শিল্পী বিষয়টি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে জানালে তারা গিয়ে আসামিদের আটক করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে হাক্কানী পাবলিশার্সের মালিকের বাসায় মধ্যরাতে ঢোকার চেষ্টা করে আটক হন রাব্বিসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা। পরে জাতীয় নাগরিক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের উপস্থিতিতে পরিবারের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে রাব্বিকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।