সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) র্যাগিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম।
তিনি জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রক্টরিয়াল বডির তদন্ত ও পর্যবেক্ষণে দোষী প্রমাণিত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হলে সিন্ডিকেট তা অনুমোদন করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম মুন্তাসিরকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। একই শিক্ষাবর্ষের জুনাইদ মোস্তাফিজ অয়নকে চার সেমিস্টার এবং প্রীতম সাহাকে দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
এছাড়া শরিফুজ্জামান খান আতিফ, সাবিত আবরার তাজিম, অনিক আহমেদ, সুয়েল রানা, মো. যুবায়ের হোসেন তালুকদার জিম, মো. নাঈম মিয়া, বিকাশ চন্দ্র ধর, মিঞা মোহাম্মদ সাইয়্যেদুল বাশার রিফাত ও রাজন সাহা সনিকেও দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান বিভাগের দুটি পৃথক ঘটনায়ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়। ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর প্রধান ফটকসংলগ্ন এক বাসায় র্যাগিংয়ের ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন ও মো. সাগর হোসেনকে দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
একই ঘটনায় শিবরাজ ত্রিপুরা, জুবায়ের আব্দুল্লাহ, রিয়াদুস সালেহীন রিয়ান, তন্ময় কর্মকার সাগর, ইয়াজ উদ্দিন পাটওয়ারী ও নাফিস ইমতিয়াজ রোহানকে হলে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তারা আবাসিক না হলেও ভবিষ্যতে হলে সিট পাবেন না। পাশাপাশি প্রক্টরিয়াল বডির সামনে হাজির হয়ে ভবিষ্যতে র্যাগিং না করার অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।
একই বিভাগের আরেক ঘটনায় ২৭ নভেম্বর দ্বিতীয় বর্ষের পাঁচ ছাত্রী প্রথম বর্ষের ১৫ ছাত্রীকে শহিদ মিনারে ডেকে র্যাগিং করে। এতে কাজী তাসমিয়া হক অরিশাকে চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া ফারজানা মেহেরুন নূহা, তাসমিয়াহ আলম মাইশা, লামিয়া ইসমাইল জুঁই ও শ্রাবণী দে প্রিয়াকে হলে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদেরও প্রক্টর বডির সামনে হাজির হয়ে লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।