ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে করা পৃথক তিন মামলায় পঞ্চম দিনে ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ১৫ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ দিন ধায করেছে আদালত। এ নিয়ে ৩ মামলায় মোট ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় তাদের জেরা হয়নি।
সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দিতে বলেন, শেখ হাসিনার স্বামী মরহুম ডা. এম এ ওয়াজেদ মিয়া থেকে থেকে পাওয়া সুধাসদনের সম্পত্তির তথ্য। স্বামীর মৃত্যুর পর ধানমন্ডির সুধাসদনের বসতবাড়ির সম্পত্তি থেকে নিজ অংশ বুঝে নেন শেখ হাসিনা। পরে সেই সম্পত্তি দুই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে হেবা (দান) করেন। ঢাকা শহরে তাদের এসব সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও নিজেদের নামে কোনো সম্পত্তি নেই উল্লেখ করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজউক থেকে প্লট বরাদ্দ নেন শেখ হাসিনা ও পরিবারের সদস্যরা।
গতকাল আদালতে যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা হলেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মোটর ক্লিনার মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন, গাজীপুরের কালীগঞ্জের সাব রেজিস্ট্রার জাহিদুর রহমান, সদর রেকর্ডরুমের সাব রেজিস্ট্রার মাহবুবুর রহমান, ঢাকার মেট্রোপলিটনের সাবেক ম্যাজিস্ট্রেট এম মেজবাহউর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক তৈয়বা রহিম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মুদ্রাক্ষরিক কামরুন্নাহার, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার অপারেটর মুক্তি তরফদার।
এসব মামলার শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়,সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ২৩ জন আসামি।
গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬ মামলা করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল মামলার আসামি।
এছাড়া ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। অযোগ্য হলেও তারা পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন।