দুর্গাপূজা একটি ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক যাত্রা

দুর্গাপূজা বাঙালির প্রাণের উৎসব, যেখানে দেবীর আরাধনা মিশে যায় উৎসবের রঙে। দেবী দুর্গার পৌরাণিক শক্তি, মহিষাসুরের বিরুদ্ধে জয় আর পূজার উদ্দীপনা নিয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য নাহার হাবীব

দুর্গাপূজা এই নামটি শুনলেই মনে ভেসে ওঠে আলোর ঝলমলে প্যান্ডেল, মাটির মূর্তির অপরূপ সৌন্দর্য, ঢাকের বাজনা এবং ভক্তিভাবের এক অপার্থিব আবহ। এটি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক মহোৎসব, যা পূর্ব ভারতের জীবনধারার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। প্রতি বছর আশ্বিন মাসে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) এই উৎসব দশ দিন ধরে পালিত হয় এবং বিজয়া দশমীতে সমাপ্ত হয়। কিন্তু এই উৎসবের উৎপত্তি কোথায়? কীভাবে একটি প্রাচীন পৌরাণিক কাহিনি থেকে এটি আজকের বিশাল সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে? এই নিবন্ধে আমরা দুর্গাপূজার উৎপত্তির গভীরতায় প্রবেশ করব, পৌরাণিক কাহিনি থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক বিবর্তন এবং আধুনিক রূপ পর্যন্ত। এটি একটি যাত্রা, যা হিন্দুধর্মের শিকড় থেকে বাংলার সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে মিলেমিশে গেছে।

দেবীর জন্ম ও যুদ্ধের কাহিনি

দুর্গাপূজার মূল শিকড় হিন্দু পুরাণে। দেবী দুর্গা হলেন শক্তির প্রতীক, যিনি অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রাচীন বৈদিক সাহিত্যে দুর্গার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। ঋগে¦দের কয়েকটি স্তোত্রে (যেমন ৪.২৮, ৫.৩৪, ৮.২৭ ইত্যাদি) এবং অথর্ববেদে তাকে একটি ঐশ্বরিক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তৈত্তিরীয় আরণ্যকেও তার নাম উল্লিখিত। কিন্তু এখানে উৎসবের বিস্তারিত রূপ নেই; এটি শুধু একটি ধারণা।

দুর্গাপূজার কেন্দ্রীয় কাহিনি আসে মার্কণ্ডেয় পুরাণের দেবী মাহাত্ম্য থেকে, যা ৫ম বা ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে রচিত। এতে বর্ণিত হয়েছে মহিষাসুরের কাহিনি। মহিষাসুর ছিল একটি মহিষ দানব, যে ব্রহ্মার কাছ থেকে বর পেয়েছিল যে কোনো পুরুষ তাকে হত্যা করতে পারবে না। এই বরের অহংকারে সে দেবতাদের ওপর অত্যাচার শুরু করে, স্বর্গলোক দখল করে নেয়। দেবতারা বিপদে পড়ে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের কাছে যান। তখন এই ত্রিমূর্তি তাদের শক্তি একত্রিত করে একটি নারী রূপ সৃষ্টি করেন দুর্গা। ‘দুর্গা’ শব্দের অর্থ ‘অপরাজেয়া’ বা ‘যাকে অতিক্রম করা কঠিন’। দেবতারা তাকে বিভিন্ন অস্ত্র দান করেন : শিবের ত্রিশূল, বিষ্ণুর চক্র, ইন্দ্রের বজ্র ইত্যাদি। 

নয় দিন ধরে দুর্গা মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। দানবটি বিভিন্ন রূপ ধরে মহিষ, সিংহ, হাতি, কিন্তু দেবী তাকে পরাজিত করেন। দশম দিনে তিনি মহিষাসুরকে বধ করেন, যা বিজয়া দশমী হিসেবে পালিত হয়। এই কাহিনি চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে পূজার সময় পাঠ করা হয়। এটি শুধু একটি যুদ্ধের গল্প নয়, বরং জীবনের অন্ধকার দিকগুলোর ওপর আলোর জয়ের প্রতীক। দুর্গা হলেন মাতৃরূপী শক্তি, যিনি সৃষ্টি, স্থিতি ও সংহারের প্রতিনিধিত্ব করেন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাহিনি হলো অকালবোধন। রামায়ণের কৃত্তিবাসী সংস্করণে (১৫শ শতাব্দী) বর্ণিত যে, রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভের জন্য রাম দুর্গাপূজা করেন। সাধারণত দুর্গাপূজা বসন্তে (চৈত্র নবরাত্রি) পালিত হয়, কিন্তু রাম শরৎকালে ‘অকালবোধন’ করেন অসময়ে দেবীকে জাগ্রত করেন। পূজার জন্য ১০৮টি নীল পদ্ম দরকার হয়, কিন্তু রাম ১০৭টি পান। তখন তিনি নিজের একটি চোখ (যা নীলকমলের মতো) উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হন। দেবী প্রসন্ন হয়ে চোখ ফিরিয়ে দেন এবং রামকে জয়ের বর দান করেন। এই কাহিনি ব্যাখ্যা করে কেন বাংলায় দুর্গাপূজা শরতে পালিত হয়। এটি ভক্তির শক্তির উদাহরণ, যা অসম্ভবকে সম্ভব করে।

কিছু ঐতিহ্যে দুর্গাপূজা দেবীর পৈতৃক বাড়িতে আগমনের প্রতীক। দুর্গা শিবের স্ত্রী, কৈলাসে থাকেন, কিন্তু শরতে তার মাতৃগৃহে (পৃথিবীতে) আসেন। এটি ফসলের সময়ের সঙ্গে জড়িত, যেখানে দেবীকে ফসলের দেবী হিসেবেও দেখা হয়। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ যেমন রাজস্থানের দধিমতি মাতা মন্দিরের ৬০৮ খ্রিস্টাব্দের শিলালিপি এবং আসামের ১৩-১৪ শতকের মূর্তি দুর্গাপূজার প্রাচীনতা নিশ্চিত করে। এই পৌরাণিক কাহিনিগুলো পূজার আচার-অনুষ্ঠানের ভিত্তি। মহালয়ায় দেবীকে আহ্বান, ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত পূজা এবং দশমীতে বিসর্জন সবই এই কাহিনির প্রতিফলন।

ঐতিহাসিক উৎপত্তি

পৌরাণিক শিকড় প্রাচীন হলেও দুর্গাপূজার ঐতিহাসিক রূপ বাংলায় কেন্দ্রীভূত। ১১-১২ শতকের পুঁথি যেমন দুর্গোৎসব বিবেক, দুর্গোৎসব প্রয়োগ ইত্যাদিতে পূজার নির্দেশনা পাওয়া যায়। জৈন গ্রন্থ যশতিলকেও একটি যোদ্ধা দেবীর বার্ষিক উৎসবের উল্লেখ আছে। মধ্যযুগে, মুসলিম আক্রমণের সময়, দুর্গা ও কালী পূজা হিন্দু পরিচয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। এটি প্রতিরোধের একটি মাধ্যম ছিল, যেখানে দেবীকে রক্ষাকর্ত্রী হিসেবে দেখা হতো।

প্রথম বড় আকারের পূজার উল্লেখ ১৫০০-এর দশকের শেষে। দিনাজপুর ও মালদার জমিদাররা এটি শুরু করেন বলে মনে করা হয়। ১৬০৬ সালে তাহেরপুরের রাজা কংশনারায়ণ এবং নদীয়ার ভবানন্দ মজুমদারের নাম উল্লেখযোগ্য। তখন পূজা ছিল রাজপরিবারের ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান, কিন্তু ধীরে ধীরে জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ১৭৯০ সালে হুগলির গুপ্তিপাড়ায় বারো জন বন্ধু মিলে প্রথম ‘বারো-যারি’ পূজা করেন, যা সম্প্রদায়িক পূজার সূচনা। এই মডেল ১৮৩২ সালে কলকাতায় পৌঁছায় কাশীমবাজারের রাজা হরিনাথের মাধ্যমে। ১৯১০ সালে বাগবাজারে সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভা প্রথম সর্বজনীন পূজা আয়োজন করে, যা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল।

ব্রিটিশ শাসনকালে বিবর্তন

ব্রিটিশ শাসন দুর্গাপূজাকে নতুন রূপ দেয়। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর জমিদার ও বণিক শ্রেণির উত্থান হয়। ১৭৯৩ সালের স্থায়ী বন্দোবস্ত আইন তাদের আরও শক্তিশালী করে। পূজা হয়ে ওঠে সম্পদের প্রদর্শনী। প্রতিদ্বন্দ্বী পরিবারগুলো সোনার মূর্তি, নাচ-গান, এমনকি ব্রিটিশ অতিথিদের নিয়ে পূজা করত। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬৫ সালে বাংলার  দেওয়ানি লাভের পর একটি ধন্যবাদ পূজা আয়োজন করে, যা ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এই প্রদর্শনীতে ভক্তির চেয়ে অহংকার বেশি ছিল। ১৯শ শতকের শেষভাগে জাতীয়তাবাদের উত্থানের সঙ্গে পূজা রাজনৈতিক রূপ নেয়। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ (১৮৮২) দুর্গাকে জাতির ‘মা’ হিসেবে চিত্রিত করে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সময় স্বদেশি আন্দোলন পূজাকে ব্যবহার করে দেশীয় পণ্যের প্রচার করে। কখনো মূর্তিতে ব্রিটিশদের দানব হিসেবে দেখানো হতো। ১৮৪০ সালে ব্রিটিশদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ হয়। ১৯২০-এর দশকে গান্ধীজীর প্রভাবে ‘সর্বজনীন’ পূজা শুরু হয়। ১৯২৬ সালে মানিকতলায় প্রথম এমন পূজা হয়, যা অস্পৃশ্যতা বিরোধী এবং সব জাতের জন্য উন্মুক্ত। প্যান্ডেলগুলো পাবলিক স্থানে স্থাপিত হয়, এবং পূজা হয়ে ওঠে জনসাধারণের উৎসব। স্বাধীনতার পর এটি আরও বিস্তার লাভ করে।

আধুনিক দুর্গাপূজা

আজ দুর্গাপূজা ইউনেস্কোর অস্পষ্ট সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (২০২১ সালে কলকাতার পূজা স্বীকৃত)। এটি শুধু ধর্মীয় নয়, বরং অর্থনৈতিক ইঞ্জিন। কলকাতায় প্রতি বছর ৩২ কোটি রুপির বেশি ব্যবসা হয় পর্যটন, হস্তশিল্প, খাবারের মাধ্যমে। কুমোরটুলির মূর্তিকাররা মাটির মূর্তি তৈরি করেন, যা পরিবেশবান্ধব উপকরণে তৈরি হচ্ছে। প্যান্ডেলগুলো থিম-বেসড যেমন তাজমহলের রেপ্লিকা বা পরিবেশ সচেতনতা যা লাখ লাখ দর্শক আকর্ষণ করে।

উদযাপনের মধ্যে রয়েছে মহালয়ার চণ্ডীপাঠ, ষষ্ঠীতে বোধন, সপ্তমীতে নবপত্রিকা পূজা, অষ্টমীতে কুমারী পূজা, নবমীতে সন্ধিপূজা এবং দশমীতে বিসর্জন। ধুনচি নাচ, সিন্দুর খেলা, ভোগ সবই উৎসবের অংশ। বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাঙালিরা এটি পালন করে, যেমন- লন্ডন, নিউ ইয়র্কে। কিন্তু চ্যালেঞ্জও আছে : পরিবেশ দূষণ, ভিড়, কমার্শিয়ালাইজেশন। তাই আজকাল ইকো-ফ্রেন্ডলি পূজা জনপ্রিয়।

দুর্গাপূজা নারীর শক্তির উদযাপনও। দেবী দুর্গা পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীশক্তির প্রতীক। এটি সম্প্রদায়ের মিলনস্থল, যেখানে ধনী-গরিব, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই অংশ নেয়। এই উৎসব আমাদের শিকড়ের স্মরণ করিয়ে দেয় এবং ভবিষ্যতের দিকে নির্দেশ করে। সংক্ষেপে, দুর্গাপূজার উৎপত্তি একটি যাত্রা পৌরাণিক দেবীর জন্ম থেকে আধুনিক সাংস্কৃতিক মহোৎসবে। এটি শক্তি, ভক্তি এবং সম্প্রদায়ের প্রতীক। প্রতি বছর এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অশুভের ওপর শুভের জয় অনিবার্য।

বাংলা সাহিত্যে দুর্গাপূজা

দুর্গাপূজার সাহিত্যিক উৎপত্তি প্রাচীন বৈদিক গ্রন্থে খুঁজে পাওয়া যায়। ঋগে¦দ (৪.২৮, ৫.৩৪, ৮.২৭ ইত্যাদি) এবং অথর্ববেদে দুর্গাকে একটি ঐশ^রিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মার্কণ্ডেয় পুরাণের দেবী মাহাত্ম্য (৫ম-৬ষ্ঠ শতাব্দী) এই উৎসবের কেন্দ্রীয় কাহিনি প্রদান করে। এই গ্রন্থে মহিষাসুর বধের কাহিনি বাংলা সাহিত্যে ভক্তিমূলক লেখার ভিত্তি স্থাপন করে। এটি দেবীর শক্তি, ন্যায়ের জয় এবং অশুভের পরাজয়ের প্রতীক হিসেবে সাহিত্যে প্রভাব ফেলে। মধ্যযুগে, ১৫শ শতাব্দীর কৃত্তিবাস ওঝার রামায়ণ অকালবোধনের কাহিনি নিয়ে আসে। রাম শরৎকালে দুর্গার পূজা করেন রাবণের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য, যা বাংলায় শরৎকালীন দুর্গাপূজার ঐতিহাসিক ভিত্তি। এই কাহিনি ভক্তির শক্তি এবং ত্যাগের আদর্শকে তুলে ধরে, যা পরবর্তী সাহিত্যে প্রভাব ফেলে। ১১-১২ শতকের পুঁথি, যেমন দুর্গোৎসববিবেক এবং কালবিবেক, পূজার আচার-অনুষ্ঠানের বিস্তারিত নির্দেশনা দেয়, যা ধর্মীয় সাহিত্যের অংশ হয়ে ওঠে। ১৯শ শতকে দুর্গাপূজা বাংলা সাহিত্যে নতুন মাত্রা পায়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আনন্দমঠ (১৮৮২) দুর্গাকে জাতির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করে। এই উপন্যাসে দেবী দুর্গা বাংলার মাটি ও জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ওঠেন। ‘বন্দে মাতরম’ গানটি দুর্গাপূজার জাতীয়তাবাদী আবেগকে উজ্জীবিত করে, যা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা হয়ে ওঠে। বঙ্কিমের লেখায় পূজা শুধু ধর্মীয় নয়, একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতীক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যে দুর্গাপূজা সামাজিক ও আধ্যাত্মিক প্রেক্ষাপটে উপস্থিত। তার বিসর্জন নাটকে পূজার আচারের মাধ্যমে ধর্মীয় ভণ্ডামি ও সামাজিক সংঘাত তুলে ধরা হয়। তার গল্প ও কবিতায়, যেমন কাবুলিওয়ালা বা দুই বিঘা জমি, পূজার সময়কার গ্রামীণ ও শহুরে জীবনের মেলবন্ধন ফুটে ওঠে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেবদাস বা পরিণীতা উপন্যাসে পূজার পটভূমি প্রেম, বিচ্ছেদ ও পারিবারিক সম্পর্কের গল্পকে গভীরতা দেয়। ২০শ শতকে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় দুর্গাশক্তি ও বিদ্রোহের প্রতীক। তার বিদ্রোহী কবিতায় দেবীর শক্তি নারীমুক্তি ও সামাজিক পরিবর্তনের রূপক হিসেবে উপস্থিত। আধুনিক লেখকদের মধ্যে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম আলো বা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের গল্পে পূজা একটি সামাজিক ঘটনা। প্যান্ডেল, ভোগ, ধুনচি নাচ এবং মানুষের মিলনমেলা এই লেখাগুলোতে জীবন্ত হয়ে ওঠে।