দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৫৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট মো. শামসুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মামলা অনুমোদনের বিষয়টি জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক আক্তার হোসেন।
দুদক মহাপরিচালক বলেন, দুদকের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শামসুর রহমান দুদকে তার সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। তিনি সম্পদ বিবরণীতে ৩১ কোটি ২৮ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪৯ টাকার সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন। দুদকের অনুসন্ধানে তার স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৬৪ কোটি ৮০ লাখ ৮৮ হাজার টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। এ ছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে ২৯ কোটি ৩২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা খরচ করেন। সব মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ ৯৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩০ টাকা। এসব সম্পদের বিপরীতে মাত্র ৪১ কোটি ৩৯ লাখ ১৭ হাজার ৪৩৩ টাকা অর্জনের গ্রহণযোগ্য উৎস পাওয়া যায়। অবশিষ্ট ৫২ কোটি ৭৪ লাখ ৬৯ হাজার ৮৯৭ টাকার সম্পদের অর্জনের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি; যা তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করে ভোগদখলে রাখেন। এ ছাড়া দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৩৩ কোটি ৫২ লাখ ৪১ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন। এ কারণে আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
সাবেক এমপি মুকুল ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ২ মামলা : ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৯ কোটি ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ব্যাংক হিসাবে ১১৯ কোটি ৯০ লাখ ৯৩ হাজার টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে ভোলা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল ও তার স্ত্রী ন্যাশনাল ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার জাহানারা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুদক। দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আলী আজম মুকুল অবৈধ উপায়ে ২ কোটি ৯২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩১ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেন নিজ ভোগদখলে রাখেন। এ ছাড়া তার ৩৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৪ হাজার ৫৮১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করা হয়। এ অপরাধে একটি মামলা করা হয়েছে।
অন্য মামলার এজাহারে বলা হয়, তার স্ত্রী জাহানারা ইয়াসমিন অবৈধ উপায়ে ৬ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তার ৩৯টি ব্যাংক হিসাবে ৬৬ কোটি ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭২ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। এ অপরাধে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে।