চারদিকে সবুজে ঘেরা ফসলের মাঠ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে ছোট্ট একটি দ্বীপ। কিন্তু না, এটি অসহায় এক দম্পতির মাথা গোঁজার ভিটে। বাড়িতে প্রবেশের নেই কোন রাস্তা। একমাত্র সম্বল তিন শতাংশ জায়গায় ছোট একটি ঝুপড়ি ঘর। টিনের মাচাতে পাটশোলার বেড়ায় তৈরি ঘরটি। রোদ ও বৃষ্টি ঠেকাতে ঘরের পাটশোলার বেড়ায় মুড়ানো হয়েছে শামিয়ানার কাপড়। ঘরে মাঝারি আকারের একটি চৌকিতে তিন ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস করছেন বৃদ্ধ আবুল কাশেম (৫১)। মলত্যাগের জন্য কাপড় দিয়ে মুড়ানো আছে একটি শৌচাগার। নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থাও। আবুল কাশেমের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সরিষা ইউনিয়নের চাপিলাকান্দা গ্রামে।
অসহায় আবুল কাশেম জানান, তিনি পেশায় ছিলেন একজন ডেকোরেশন মিস্ত্রি। যা রোজগার করতেন তা দিয়েই কোনমতে টেনেটুনে সংসার চালাতেন। অভাবের সংসারে সেসময় খেয়েপড়ে চলতেই বেগ পোহাতে হতো। ফলে নির্মাণ করা হয়নি মাথা গোঁজার একটি ঘরও। কিন্তু গত পাঁচ বছর আগে তিনি হঠাৎ স্টোক করেন আবুল কাশেম। একে একে শরীরে হানা দেয় ডায়াবেটিকস, শ্বাসকষ্ট, হাইপ্রেসার ও হার্টের রোগ। এরপর থেকে তিনি আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আবুল কাশেম এখন নানা রোগে-শোকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
জানা গেছে, আবুল কাশেমের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে সংসারে। বড় ছেলে ইমরান হোসেন লেখাপড়া করার সুযোগ পায়নি। একমাত্র মেয়ে মারিয়া আক্তারও বড় ভাইয়ের মতো। মেঝো ছেলে নাজিমুল ইসলাম (১০) ও ছোট ছেলে আবু সিদ্দিক মিয়া (৮) স্থানীয় একটি মাদরাসার নূরানি বিভাগে পড়ে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবুল কাশেম বলেন, ‘স্টোক করার পর থাইক্যা আর কোন কামকাজ করতে পারি না। বউ-পোলাপান লইয়্যা থাকার বালা (ভালো) একটা ঘরও করার সুযোগ পাইছি না। বালা একটা টয়লেটও নাই। পানি খাওনের একটা কলও (টিউবওয়েল) নাই। গ্রামের মানুষের কাছে হাত পেতে এখন কপালে ভাত জুটে।’
‘কতবার যে চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে গেছি! কিন্তু গরীবের পাশে কেউ দাঁড়াইলো না। আমারে যদি একটা ঘর, একটা কল (টিউবওয়েল) ও টয়লেটের ব্যবস্থা কইরা দিতাইন খুব উপকার অইত।’
কাশেমের স্ত্রী আলপনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী চার-পাঁচ বছর ধরে কোন কামকাজ করতে পারে না। একবার খাইলে দুইবার উবাস (উপবাস) থাকি। পোলাপানগুলো লইয়্যা ভাঙা ঘরে থাহি (থাকি)। বৃষ্টিতে ভিজি, রইদে (রোদে) শুকাই। সামনে শীত আইতাছে অসুস্থ স্বামী ও পোলাপান লইয়্যা কেমনে থাকবাম এই ভাঙা ঘরে? আমারে একটা ঘর ও টয়লেট বানাইয়া দেও বাবা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, বৃদ্ধ আবুল কাশেমের বিষয়টি ইতোমধ্যে আমার নজরে এসেছে। তিনি আবেদন করলে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।