গুরুকে ছাপিয়ে যাওয়া হলো না শীষ্যের। শেষ রাউন্ডটা জিতে পাঁচ বছর পর জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হলেন গুরু নিয়াজ মোরশেদ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সপ্তমবারের মতো জাতীয় দাবায় চ্যাম্পিয়ন হলেন উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ড মাস্টার। আর শেষ রাউন্ডটা হেরে যাওয়ায় রানার্স-আপ হতে হলো শীষ্য ফাহাদ রহমানকে।
সর্বশেষ ২০১৯ সালে জাতীয় দাবায় সেরা হয়েছিলেন নিয়াজ। এরপর থেকে খেলার চেয়ে কোচিংয়েই বেশি মনযোগী হয়েছিলেন তিনি। খেললেও তাতে মনযোগ ছিল কম। এখনও তাই। খেলার চেয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াতেই আনন্দ খুঁজে নেন নিয়াজ। তবে চাইলে যে এখনো সবাইকে পেছনে ফেলতে পারেন এবারের জাতীয় আসর তার প্রমাণ। আগের দিন পেনাল্টিমেট রাউন্ড শেষে নিয়াজ ও আন্তর্জাতিক মাস্টার ফাহাদ সমান সাড়ে নয় পয়েন্ট নিয়ে ছিলেন শিরোপা লড়াইয়ে। বুধবার শেষ রাউন্ডে নিয়াজ ফিদে মাস্টার সুব্রত বিশ্বাসকে হারান। তবে ফাহাদ সাকের উল্লাহর কাছে হেরে যান। সাড়ে দশ পয়েন্ট নিয়ে নিয়াজ হন চ্যাম্পিয়ন। ফাহাদ রানার্স-আপ হন সাড়ে নয় পয়েন্টে।
৫৯ বছর বয়সেও সেরা দাবাড়ু হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় নিয়াজ বলেন, ‘এবার আমি ভালোই খেলেছি। ১৩ খেলার ৮টি জিতেছি এবং পাচটি ড্র করেছি। এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ভালো হয়েছে।’১৯৭৯ সালে প্রথম জাতীয় দাবায় সেরা হয়েছিলেন নিয়াজ। এরপর টানা ১৮৮২ পর্যন্ত চার বার চ্যাম্পিয়ন হন। এরপর বড় একটা সময় উচ্চ শিক্ষার জন্য দাবা থেকে দূরে ছিলেন। প্রত্যাবর্তনের পর ২০১২ সালে ফের সেরার আসন দখলে নেন। ২০১৯ সালে সর্বশেষ তিনি জাতীয় দাবায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।
দেশের পাঁচ গ্র্যান্ডমাস্টারের মধ্যে জীবিত আছেন চারজন। তবে এবার জাতীয় দাবায় কেবল নিয়াজই খেলেছেন। রিফাত বিন সাত্তার পেশাগত ব্যস্ততায় অংশগ্রহণ করেননি। অনেক দিন থেকেই ব্যক্তিগত কারণে দাবা থেকে দূরে আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার আব্দুল্লাহ আল রাকিব। এনামুল হোসেন রাজীব স্ত্রীর উচ্চশিক্ষার কারণে ইংল্যান্ডে রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি জাতীয় চ্যাম্পিয়ন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান গত বছর জাতীয় দাবা খেলতে খেলতেই পৃথিবী মায়া ত্যাগ করেছিলেন।
ফাহাদের সামনে সুযোগ ছিল প্রথম জাতীয় দাবার সেরা হওয়ার। শেষ রাউন্ড জিতলে তিনি সুযোগ পেতেন নিয়াজের সঙ্গে প্লে-অফ খেলার। তবে শাকেরের কাছে হেরে 'গুরু' নিয়াজকে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথের কাটা দূর করেছেন 'শীষ্য' ফাহাদই।