ফ্লাইং ডাচম্যান : শুধু রূপকথা?

দক্ষিণ আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূল ঘেঁষে আমস্টারডামে ফিরছে বাণিজ্য জাহাজ ফ্লাইং ডাচম্যান। সিল্ক, রঞ্জক আর মসলা নিয়ে নেদারল্যান্ডসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ক্যাপ্টেন ডেকেনের বাণিজ্যতরী। বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করে অভ্যস্ত ফ্লাইং ডাচম্যানের নাবিকরা। কিন্তু আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে একটা আতঙ্ক তাদের। জাহাজ এগিয়ে চলেছে কেপ অব গুড হোপ অন্তরীপের দিকে। জাহাজের গোরস্তান বলা যায় এলাকাকে। অন্তরীপ যতই এগিয়ে আসতে থাকল, নাবিকদের মাঝে আতঙ্ক তত বাড়তে থাকে।  কোনোভাবেই টলাতে না পেরে নাবিকদের একটা দল ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। শুধু বিদ্রোহ দমন করেই ক্ষান্ত হলেন না ক্যাপ্টেন, নেতাকে হত্যা করে ছুড়ে ফেললেন উত্তাল সমুদ্রে। এক গল্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্রোহী নেতার মৃতদেহ সমুদ্রে নিক্ষেপ করার পর দেবদূত নেমে আসে জাহাজে। নিজেকে আর জাহাজকে রক্ষা করতে, ক্যাপ্টেন সেই দেবদূতের কাছে অদ্ভুত প্রতিজ্ঞা করে। সেই অনুযায়ী, পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত ক্যাপ্টেন এবং জাহাজ ফ্লাইং ডাচম্যান সমুদ্রের বুকে চলতে থাকবে। ১৯৩৯ সালে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পালতোলা একটি ভৌতিক জাহাজ তীব্র বেগে তীরের দিকে ছুটে আসছিল, আর তারপর হঠাৎ করেই সেই জাহাজ বাতাসে মিলিয়ে যায়। ব্যাপারটা অনেকটা মরীচিকা দেখতে পাওয়ার মতো।