ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো এলাকায় একটি ইসলামি আবাসিক স্কুল ধসে পড়েছে। এতে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একানব্বই শিক্ষার্থী ও কর্মীর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
সোমবার বিকেলে ‘আল খোজিনি’ নামের ওই মাদ্রাসার নামাজঘরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছিল। হঠাৎ ওপরের নির্মাণাধীন তলা ভেঙে নিচে পড়ে যায়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতায় তিনটি মরদেহ বের করা সম্ভব হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকেই আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বজনেরা প্রিয়জনদের খোঁজে ব্যাকুল হয়ে চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
উদ্ধারকর্মীরা জানাচ্ছেন, বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহার করে কয়েকজন জীবিত থাকার সংকেত পাওয়া গেছে। কিন্তু ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে হাতে হাতে ধ্বংসস্তূপ সরাতে হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্বল স্তম্ভের ওপর নতুন তলার নির্মাণ কাজ চলছিল। সেই চাপই পুরো ভবন ধসিয়ে দিয়েছে। সংস্থার কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে এমন নির্মাণকাজে কঠোর নিরাপত্তা মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, প্রায় নয় মাস ধরে ভবনটির ওপরতলায় নির্মাণ কাজ চলছিল। এর আগেও দেশটিতে অনুরূপ দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে পশ্চিম জাভায় এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভবন ধসে তিনজন মারা যান। ২০১৮ সালে সিরেবনে সাত কিশোর প্রাণ হারায় এবং একই বছরে জাকার্তায় স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনের একটি অংশ ধসে অন্তত পঁচাত্তর জন আহত হন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ একানব্বই জনকে উদ্ধারে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালাচ্ছে স্থানীয় দমকল ও উদ্ধার সংস্থাগুলো। আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে স্বজনেরা কান্না ও উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রার্থনা করছেন যেন তাদের সন্তানরা জীবিত অবস্থায় ফিরে আসে।