সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনও নির্বাচন হবে না: অসীম

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন না হলে দেশ ভয়াবহ অনিশ্চয়তায় পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম।

রাজধানীর নিউমার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনে আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা-১০ আসনের বিএনপি, অঙ্গসংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অসীম বলেন, দেশকে ভয়াবহ অনিশ্চয়তার কবল থেকে উদ্ধার করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করতে হবে। একইসঙ্গে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জড়িত ব্যক্তিদের এবং পতিত স্বৈরাচারের পদলেহনকারীদের নির্বাচনি প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখতে হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে অসীম বলেন, সংস্কারের নামে কালক্ষেপণ চলছে। সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার ফেরত চেয়েছিল, কিন্তু এখনো তা পূরণ হয়নি।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা নানা পদ্ধতির কথা বলে সময় নষ্ট করছেন, তারা আসলে পতিত স্বৈরাচারকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করছেন। সেটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, সংবিধানের বাইরে কোনো নির্বাচন সম্ভব নয়। রাজনীতিবিদদের পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হবে। সংস্কারের জন্য প্রতিটি রাজনৈতিক দলের উচিত চার্টার তৈরি করে সাক্ষর করা।

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসনসহ সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। এ অবস্থায় কোনো দল এককভাবে ক্ষমতায় গিয়ে সংস্কার সম্ভব নয়। দেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে অসীম বলেন, বিএনপি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি করে। আন্দোলনের শরিক সব দলকে ভবিষ্যৎ সরকারে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

ঢাকা-১০ আসনের স্থানীয় সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এলাকায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও পার্ক নেই। বিভিন্ন মাঠ গোষ্ঠীর নামে বরাদ্দ দিয়ে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিটি এলাকায় মাঠ ও পার্ক নিশ্চিত করতে হবে।

নগর সমস্যার সমাধানে তিনি অপরিকল্পিত সড়ক নকশা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অনুমোদনহীন থ্রি-হুইলার নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেন। বলেন, শুধু ঢাকামুখী উন্নয়ন হলে নগরী আর বাসযোগ্য থাকবে না। এজন্য মহাপরিকল্পনা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া উন্নয়নের ধারা বজায় রেখেছেন। তারেক রহমানও জনগণের পাশে থেকেছেন। দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন কলাবাগান থানা বিএনপির আহ্বায়ক খালেক কিবরিয়া লাকি, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, হাজারীবাগ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. রেজা ফয়সাল, নিউমার্কেট থানা বিএনপির আহ্বায়ক লায়ন এস এম মতিউর রহমান এবং অন্যান্য স্থানীয় নেতারা।