১৯৫২ সালের ৫ ডিসেম্বর। লন্ডনের আকাশে নেমে এলো অদ্ভুত মেঘের ভেলা। গাঢ় আর অস্বচ্ছ সে কুয়াশা ভেদ করে অক্সিজেন নেওয়া ফুসফুসের পক্ষে দুঃসাধ্য হয়ে উঠতে লাগল। সেই মেঘ কাটতে কাটতে পেরিয়ে যায় ৫ দিন, অকালে ঝরে যায় ১২ হাজার প্রাণ। কয়লার আগুন থেকে সৃষ্ট ধোঁয়া, যানবাহনের কালো ধোঁয়া আর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে নিষ্কাশিত বায়বীয় বর্জ্য মিলে তৈরি হয় ভারী ধোঁয়াশা। ঢাকা পড়ে সূর্য, জনজীবন হয় বিপন্ন। ‘গ্রেট স্মগ’কে বলা হয় ইউরোপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দূষণ। তবে এমন আবহাওয়া আর অস্বাভাবিকতাকে উপেক্ষা করে যার যার কাজ করতে ব্রিটিশ নাগরিকরা বেরিয়ে পড়ে কর্মস্থলের পথে। কিন্তু একদিনের মধ্যে অবস্থা এতটা খারাপ হয়ে দাঁড়ায় যে, তাকে উপেক্ষা করা এক কথায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পাঁচদিনের মধ্যে গোটা লন্ডনকে আক্ষরিক অর্থে পঙ্গু করে ফেলে ধোঁয়াশা। পাতাল রেল ছাড়া যোগাযোগের সব ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় লন্ডনবাসীর জন্য। স্মগ বা ধোঁয়াশা শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে প্রায় ৪,০০০ ব্যক্তি অকালে প্রাণ হারায়। বিভিন্ন গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ‘গ্রেট স্মগ’ কেড়ে নিয়েছিল ৮ থেকে ১২ হাজার প্রাণ। বাধ্য হয়ে ১৯৫৬ সালে ‘ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট’ বা বিশুদ্ধ বাতাস আইন পাস করে সংসদ। এই আইন অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে কয়লা পোড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।